সুজনের তথ্য

প্রার্থীদের ২৯.৭৩% আসামি, ৪০.২৪% এসএসসির নিচে

আপডেট : ২৩ মে ২০২৩, ০২:৩৪ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মিলিয়ে ৩৩৩ প্রার্থীর ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশই মামলার আসামি। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশের এসএসসির নিচে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গতকাল সোমবার গাজীপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সুজন এসব তথ্য প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন জানায়, প্রতিদ্বন্দ্বী আট মেয়র প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা আছে। তারা হলেন জাতীয় পার্টির এমএম নিয়াজ উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আজমত উল্লা খানের বিরুদ্ধে অতীতে তিনটি মামলা ছিল। বর্তমানে কোনো মামলা নেই। তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার মধ্যে একটি ছিল হত্যা মামলা।

২৪৬ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৮৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা আছে। ৪২ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৮ জনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা ছিল। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যা মামলা রয়েছে। চারজনের বিরুদ্ধে অতীতে হত্যা মামলা ছিল।

৭৯ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা আছে এবং ৩ জনের বিরুদ্ধে অতীতে ফৌজদারি মামলা ছিল। একজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যার একটি মামলা চলমান রয়েছে। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৩৩ প্রার্থীর মধ্যে ৯৯ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৯ জনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। ৩০২ ধারায় ৯ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ৫ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল।

প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে সুজন জানায়, ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। এদের মধ্যে আট মেয়র প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের যোগ্যতা স্নাতকোত্তর, একজনের এসএসসি এবং দুজনের এসএসসির নিচে।

৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের ২৪৬ জন সাধারণ ওয়ার্র্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৯২ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। ৩৯ জনের এসএসসি এবং ৪৩ জনের এইচএসসি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ৫০ ও ২১ জন। ১ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করেননি।

১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৭৯ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪০ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে।

প্রার্থীদের পেশাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সুজন জানায়, আট মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন ব্যবসায়ী, দুজন চাকরিজীবী, একজন আইনজীবী, একজন গৃহসম্পত্তি ভাড়া থেকে আয় করেন এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। ২৪৬ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১৯২ জনের পেশাই ব্যবসা। কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৩ জন। আইনজীবী ৭ জন। চাকরিজীবী ১১ জন। ১৬ জন অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত। ৭ জন পেশার ঘর পূরণ করেননি।

তথ্য উপস্থাপন শেষে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার, ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক তৌফিক জিল্লুর রহমান। তারা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত