প্রধানমন্ত্রীকে বিজয় উপহার মেয়র জায়েদার

আপডেট : ২৭ মে ২০২৩, ০৬:১৪ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর গতকাল শুক্রবার ভোরে এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত মেয়র জায়েদা খাতুন তার বিজয়কে গাজীপুরবাসী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানান। অপর দিকে গতকাল সকালে পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমত উল্লা খান বাসভবনে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি পরাজয় মেনে নিয়েছেন এবং জায়েদা খাতুনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জায়েদা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার

ছেলেকে সত্য প্রমাণের জন্যই আমার ভোটে আসা। কিছু কিছু লোক আছে, যারা যা করেছে তাদের দিলেই (মনে) আছে। আমি গাজীপুরবাসীর জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টাই করব। আমার কাজ সবাইকে দেখিয়ে দিব। আমি আজমতউল্লা খানকে জিজ্ঞেস করে ও মতামত নিয়েই কাজ করব। এলাকার মানুষকে নিয়েই কাজ করব। আমার ছেলে ও আমার মিথ্যা কেউ পায় নাই। মিথ্যা অভিযোগ তুলার দুঃখেই, মিথ্যার প্রতিবাদে এই খানে আমার ভোটে আসা। গাজীপুরের মানুষকে এত ভালোবাসছি এবার দেখি তারা আমারে কেমন ভালোবাসে। এই ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্যই ভোটে আসা। আমি গাজীপুরবাসীর ভালোবাসা পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গাজীপুরবাসীর সবাইকে শুভেচ্ছা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও শুভেচ্ছা। আমি ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। ভোটটা আমার সুষ্ঠু হয়েছে। আমি আমার ভোটের হিসাব পেয়েছি। এই জন্য আমি আরও ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীকে।’

বিজয়টা আপনি কাকে উপহার দেবেন সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বিজয় আমি গাজীপুরবাসীকে দিব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দিব।’

গাজীপুরবাসীর জন্য কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘গাজীপুরবাসীর ঋণ আমি শোধ করার চেষ্টা করব। সাংবাদিকরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাই অপনাদের ঋণও আমি শোধ করব। আপনারা যখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তখন আমার সাথে বা আশপাশে কেউ ছিল না। আমি গাজীপুরের কাজ করেই ঋণ শোধ করব। কাজটা যেহেতু আমি একা করতে পারব না, তাই আমার ছেলেকে নিয়ে করব যে আগে থেকেই আমার পাশে ছিল। আমার ছেলেকে নিয়ে যে যে কাজ বাকি আছে, সেগুলো করব এবং আমার ছেলের যে কাজগুলো বাকি ছিল, সেগুলো আমি শেষ করে দিব ইনশা আল্লাহ।’

সকালে জাহাঙ্গীর আলম তার বাস ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের শক্তি দিয়ে আমি দেখিয়েছি, যত দিন থাকব আমার জীবন এবং আমার বাড়িঘর সব আপনাদের। আমার মালিকানা কিছু লাগবে না। সবকিছুর মালিক আপনারা। যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে আমার এবং আমার মায়ের ঘরের দরজা খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা। সে হিসেবে আপনারাই আমার সবচেয়ে আপনজন। শহরের মালিক যে জনগণ এটা আপনাদের ভোটে বিজয়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। নির্বাচনে আপনাদের জয় হয়েছে, আর যারা অপরাধী তারা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সে হিসেবে তাদের আর কিছু বলার নেই। কেউ আঘাত করলে তাকে পাল্টা আঘাত করতে হয় না।’

গতকাল দুপুরে মহানগরের ছয়দানা এলাকার তার বাড়িতে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। এ সময় উৎসুক জনতা ও নেতা, কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মা মানে আপনাদের মা। আমার বাড়িঘর আপনাদের সবার জন্য উন্মুক্ত। যেকোনো সময়, যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা আসবেন। আমার মা এবং আমি মিলে আপনাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। সবার জন্য এ শহর। আমরা কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব চাই না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন। উনি আমাদের অভিভাবক, ওনাকে সহযোগিতা করব। আমাদের নেতাকর্মীদের যারা হয়রানি করছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা বন্ধ করতে হবে। কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবে না। কারণ যারা শহরের মেয়র বানাতে পারে, তারা এই সমাজে সবকিছু প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। পেশিশক্তি দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না। ওয়ার্ড, থানা ও মহানগরের সবাইকে নিয়েই পঞ্চায়েত সিস্টেম করে শাসনব্যবস্থা এবং সিটির কাজগুলো করা হবে।’

ফলাফল মেনে সহযোগিতার আশ্বাস আজমতউল্লা খানের : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে জানিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী আজমতউল্লা খান বলেছেন, ‘ইভিএমে কিছু ত্রুটি থাকলেও ফলাফল মেনে নিয়েছি। যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তাকে আমি স্বাগত জানাই। তিনি (জায়েদা খাতুন) যদি চান, তাহলে সহযোগিতা করব। দেখা যাক উনি কী ধরনের সহযোগিতা চান।’

গতকাল গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আমি রায় মেনে নিয়েছি।’ অন্য কেউ পরাজিত হলে কি মেনে নিত কি না, সেই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচনের রায় মেনে নিয়েছি। এটা যদি অন্য কারও বিপক্ষে যেত, তিনি কি মেনে নিতেন? এখন তিনি বলবেন সুষ্ঠু। আমি একটা নীতি অনুসরণ করে চলি। আমি একটা নৈতিকতা মেনটেইন করি। সুতরাং নির্বাচন আমার বিপক্ষে গেলেই আমি বলব, এটা সঠিক না। এ কালচার থেকে জাতিকে বের হয়ে আসতে হবে।’

পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে জানিয়ে আজমত বলেন, ‘আমি যেহেতু দলীয় প্রার্থী ছিলাম, দলের সবাই বসে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। দলের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘নৌকা নয়, ব্যক্তির পরাজয় হয়েছে’ ভোটে জয়লাভের পর জায়েদা খাতুনের ছেলে সাবেক মেয়র ও প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলমের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আজমত বলেন, ‘কথাটি স্ট্যান্ডবাজি, আমি নৌকার প্রার্থী, আমার পরাজয় মানে নৌকার পরাজয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত