ডিমের দামে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কোম্পানি

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৫:৪৬ এএম

নিম্ন আয়ের মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটায় ডিম দিয়ে। কিন্তু সেই ডিমও এখন ব্যয়বহুল। এক বছর আগে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ৯৬ থেকে ১০৫ টাকা, যা এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তা ১৬০ টাকা ছাড়িয়েছিল। ডিমের দাম এখন যেভাবে বাড়ছে, তাতে কিছুদিনের মধ্যেই ১৬০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, দেশে ডিমের বার্ষিক চাহিদা ১ হাজার ৭৮৫ কোটি পিস। এর মধ্যে কাজী ফার্মস, নারিশ, প্যারাগন, আফতাব, কোয়ালিটি, প্রোভিটা, সিপি ও ডায়মন্ড এগসহ ১০ কোম্পানি বছরে প্রায় ২০৫ কোটি ডিম উৎপাদন করে, যা বার্ষিক চাহিদার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে কাজী ফার্মস, দৈনিক ১৩ লাখ পিস। এ ছাড়া প্যারাগন পোলট্রি সাড়ে ৭ লাখ, সিপি ৭ লাখ, ডায়মন্ড এগ সাড়ে ৬ লাখ, নারিশ এগ্রো ৬ লাখ ও নাহার এগ্রো প্রতিদিন সাড়ে ৫ লাখ ডিম উৎপাদন করছে।

তবে এসব কোম্পানি চুক্তিভিত্তিতে (কন্ট্রাক্ট ফার্মিং) অনেক প্রান্তিক খামারের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করছে। শুরুতে প্রান্তিক খামারিদের বাজার মূল্যের চেয়ে কম দরে বাচ্চা ও খাবার সরবরাহ করে কোম্পানিগুলো এবং প্রতিদিনই চুক্তিভিত্তিক খামারি বাড়ছে। চুক্তিভিত্তিক খামারি বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো শুরুতে বিভিন্ন এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ দিলেও এখন সরাসরি কর্মী নিয়োগ করছে। এর মাধ্যমে পুরো দেশের মুরগি ও ডিমের বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে কোম্পানিগুলো।

দেশের পোলট্রি শিল্পের এসব কোম্পানি শুধু ডিম কিংবা মুরগির মাংসের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে না, এ শিল্পের খাবার ও বাচ্চার দামও তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। খামারিরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা প্রায় ৯০ টাকায় বিক্রি করে হ্যাচারিগুলো, যা ২০২২ সালে ছিল ২৫-৩০ টাকা। বর্তমানে অবশ্য দাম কিছুটা কমে ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ২০২১ সালে প্রতি কেজি পোলট্রি খাবারের দাম ছিল ৪৮ টাকা, যা ২০২২ সালে ৫৪ টাকায় উন্নীত হয়। এখন পোলট্রি খাবার বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত