ভিসানীতিতে ভয়ের কিছু নেই সাধারণের

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৫:৫০ এএম

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত আছে। আগামী সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ক্ষেত্রে এই ভিসানীতি প্রয়োগ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর সাধারণের মধ্যেও এ বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মূলত নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অনেক পক্ষকে এই ভিসানীতির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। এসব পক্ষের অনেক ঘনিষ্ঠজন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, আবার অনেকেই যাবেন।

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এ ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ভিসানীতি দিয়েছে তাতে স্পষ্ট করা হয়েছে কারা এর মধ্যে পড়বে। এতে সবার উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের জন্য নতুন হলেও যুক্তরাষ্ট্র আরও অনেক দেশেই এমন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। সেসব দেশ থেকে সাধারণ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসাও করছে। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) একেক দেশ বা অঞ্চলের জন্য তাদের হিসাব অনুযায়ী ভিসানীতি ঘোষণা করে। তারা বলেন, সাধারণের উদ্বেগের কারণ না হলেও যেহেতু দেশটি নির্বাচন ইস্যুতে তাদের প্রত্যাশা এবং সহায়তার কথা বলেছে, তাই এ বিষয়ে সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এটাকে এত হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচনের সঙ্গে অনেকগুলো পক্ষ জড়িত। তাই যাদের ওপর এই ভিসানীতি প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে, তাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল চাওয়া আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটেছে।

বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানালেও সাধারণের উদ্বেগের বিষয়টি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। পাশাপাশি কূটনৈতিক মহল মনে করে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ থেকে বক্তব্য আসা উচিত।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করা হয় এবং বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে নতুন ভিসানীতির ব্যাখ্যা করেন। মার্কিন নতুন ভিসানীতির ঘোষণায় গাজীপুর সিটির নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে মতামত এসেছে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে।

আন্তর্জাতিক বিষয়ের বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমেরিকা বলতে গেলে ভিসার ব্যাপারে সব দলকে উদ্দেশ করে বলেছে। সরকারি দল এবং বিরোধী দল সবাইকে উদ্দেশ করে বলেছে। কেউ কেউ বলছেন, ১৭ কোটি মানুষের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা। তবে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কিন্তু স্পষ্ট করেছে। যারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের জন্য এই খড়্গ। এটা যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন সরকারের তথা ডেমোক্র্যাটদের একটি এজেন্ডা। এখানে সবাই জড়িত হয়। তবে একটা চাপ তো থাকবেই।’

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনীতির বিশ্লেষক ওয়ালি উর রহমান বলেন, ‘আমেরিকা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে তাদের ভিসানীতি প্রয়োগ করে। লাতিন আমেরিকার জন্য এক ধরনের সিস্টেম, কলম্বিয়া, আফ্রিকার অনেক দেশে তারা ভিন্ন ভিন্ন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। এশিয়াতেও তাদের একটা সিস্টেম রয়েছে। জাপানের জন্য করেছে। বাংলাদেশের জন্যও একটি ভিসানীতি তারা করেছে। আমাদের কাছে এই ভিসানীতি নতুন লাগলেও তাদের কাছে এটা নতুন না। বোঝাই যায়, তারা এখানে কিছু কিছু কাজ করতে চায়। তাদের কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। তারা এসব উদ্দেশ্যের কারণে বাংলাদেশকে পাশে চায় এবং চাইবে। এখানে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কোনো বিষয়ই নেই। কেউ কেউ এটাকে উদ্বেগের জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। এটা মোটেও ঠিক নয়।’

নাজমুল আহসান কলিম উল্যাহ বলেন, ‘কারা এই ভিসানীতির আওতায় পড়বেন এটা যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করে দিয়েছে। তার পরও এটি ১৭ কোটি মানুষের ওপরে দেওয়া হয়েছে। দেশের ভেতরে যারা বসবাস করে তাদের ওপর এবং যারা বাইরে আছে তাদের ওপরও দেওয়া হয়েছে। এটা অবশ্যই একটা উদ্বেগের বিষয়। সাধারণ মানুষের এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকা দরকার। আমি মনে করি, এটি প্রতিটি নাগরিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নীতি। আমাদের ধারণা ছিল না নির্বাচন সামনে রেখে এ রকম একটি কাজ তারা করবে। আর এই নীতির জন্য অনেকের ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব পড়বে। সবার ওপরে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে না। তবে নাগরিকদের এই বিষয়টা ভালো করে বুঝতে হবে। আমাদের প্রবণতা আছে যেকোনো বিষয় নিয়ে গুজব রটানো। নেতিবাচক কথাবার্তা বলার। এ বিষয়ে দায়িত্বহীন কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্বাচন সামনে রেখে এমন পলিসি তারা কেন নিল? এটা বুঝতে হবে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত