আগামী অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে করযোগ্য আয় না থাকলে নতুনভাবে ন্যূনতম কর ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতাদের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার করা হয়েছে। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা হয়েছে।
তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার করা হয়েছে। কোনো প্রতিবন্ধীর পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে এরূপ প্রত্যেক সন্তানের পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বেশি ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যমান আইনে করদাতাদের আয় ৩ লাখ পর্যন্ত করমুক্ত। পরবর্তী ১ লাখ পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ৫ শতাংশ, পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ হারে কর ধার্য রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনেও একই হার রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়সীমায় কিছুটা ছাড় দিয়ে অন্যভাবে করের হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। রিটার্ন দাখিলের সিøপ দেখিয়ে প্রায় ৪০ ধরনের সেবা নিতে বাধ্য করা হলো। রিটার্ন দাখিল করতে হলে ন্যূনতম কর ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুসারে, মূল্যস্ফীতি ওই অর্থবছরে গড়ে ৫.৯২ শতাংশ ছিল। পরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ হার ৫.৪৪ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫.৭৮ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৬ শতাংশ হয়। মূল্যস্ফীতির হিসাব ভিন্ন হলেও পরের চার অর্থবছর করমুক্ত আয়সীমা একই রাখা হয়। করোনার মহামারীর কারণে অর্থনীতিতে ধস নামে। সাধারণ মানুষের অনেকের আয় কমে যায়। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছ থেকে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ব্যাপক চাপ আসে। করদাতা হারানোর ভয়ে এনবিআর আপত্তি জানায়। শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে করমুক্ত আয় ৩ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বহাল রাখা হয়েছে। গত মাস ছয়েক থেকে মূল্যস্ফীতি ৮-৯ শতাংশের ঘরে। এবার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর চাপ ছিল।
