মূল্যস্ফীতি ও ডলারের সংকট দুটোর চাপ বাড়বে : ড. জাহিদ হাসান

আপডেট : ০২ জুন ২০২৩, ০৬:৩৮ এএম

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হাসান বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটা সময় উপযোগী বাজেট হয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। আমাদের বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির যে চাপগুলো আছে। দুটো বড় চাপ আছে এর মধ্যে একটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি আর অন্যটি হচ্ছে ডলারের সংকট। এই দুটি চাপকে ঠেকানো এই বাজেট দিয়ে সম্ভব না। এই বাজেটের কারণে এই দুটোর চাপ আরও বাড়বে।

আমাদের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে সেটার ঘাটতি অনেক বড়। বাজেট ঘাটতির অর্থায়নের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে যে এক-তৃতীয়াংশের মতো বৈদেশিক সহায়তা আসবে এবং দুই-তৃতীয়াংশ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে। অভ্যন্তরীণ যেটা নেওয়া হবে সেটা যদি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া হয় তাহলে সেটা মূল্যস্ফীতির জন্য খুবই ভয়াবহ হবে। মূল্যস্ফীতিকে অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয় তাহলে ব্যক্তি খাতে ঋণে প্রভাব পড়বে। অভ্যন্তরীণ থেকে যে ঋণ নেওয়া হবে সেটা তো সরকারি ব্যাংক থেকেই নেওয়া হবে। সেখানে অনেক আমদানি ব্যয় থাকবে যার কারণে স্থানীয় বাজার থেকে ডলার কিনতে হবে। সেটা কিনতে গেলে আমাদের রিজার্ভ তো এমনিতেই কমে যাবে।

শর্ত দুটি জায়গায় খুঁজতে হবে একটি হচ্ছে রাজস্ব আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে আরেকটি হচ্ছে ভর্তুকি। আইএমএফ যে শর্ত দিয়েছে রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে ট্যাক্স রেভিনিউ জিডিপির ০.৫ শতাংশ বাড়াতে হবে। কিন্তু সরকার যে রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা দিয়েছে সেটা অনেক বেশি। ৬৭ হাজার কোটি টাকা। আইএমএফের অভিলাষের চেয়ে সরকারের অভিলাষ ব্যাপক। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে এই যে রেভিনিউ আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সেটা আসবে কোথা থেকে। সেটা দেখা দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত