জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতাবিবর্জিত ‘স্মার্ট লুটপাট’র বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির দুই নেতা। তারা বলেছেন, ঋণনির্ভর এ বাজেট সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। বরং জনগণের ঋণের বোঝা আরও বাড়বে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বনানীর নিজ বাসায় প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট অবশ্যই স্মার্ট বাজেট। এত স্মার্টলি লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা কোনো সরকার বা দলের লোকজন পাচার করতে পারবে? এত স্মার্টলি ব্যাংক লুটপাট, সিন্ডিকেট পরিচালনা, জনগণের সম্পদ লুট করতে পারবে? সেই দিক থেকে এ বাজেট স্মার্ট, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট সরকার দিচ্ছে নাকি আইএমএফ দিচ্ছে তা দেখতে হবে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী তাদের বাজেট দিলে সরকার লুটপাট করতে পারবে না আর যদি আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী বাজেট না করে সে ক্ষেত্রে তাদের সাপোর্ট পাবে না।
আমীর খসরু বলেন, ‘ভাড়া, চাঁদা আর কমিশনভিত্তিক অর্থনীতি করছে সরকার। যার দায়ভার জনগণকে দিতে হচ্ছে। সব প্রতিষ্ঠানকে লুটপাটে পরিণত করেছে। আওয়ামী অর্থনীতি বাস্তবায়নে স্মার্টলি লুটপাটের জন্য বাজেট দিয়েছে সরকার। বড় আকারের বাজেট দিয়ে মূলত ঋণ নিয়ে ঘি খাচ্ছে সরকার, এর বোঝা জনগণকে বহন করতে হবে। ৫২ শতাংশ ঋণ বেড়েছে গত সাত বছরে, যার দায় বইতে হবে আগামী প্রজন্মকে। ৪২ শতাংশ মানুষ দরিদ্রতার মধ্যে আছে, নতুন করে আরও দরিদ্র হচ্ছে। ঢাকায় নতুন দরিদ্র হয়েছে ৫২ শতাংশ। আওয়ামী লীগের অর্থনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা লাভবান হবে, জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আওয়ামী লীগের লুটপাটের এ বাজেটে অর্থনীতি বিপাকে পড়েছে, দেশের জনগণ বিপদে পড়ছে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে। অনেক মানুষ একবেলা খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা সীমিত করেছে। যারা ধনী হচ্ছে তাদের কর দিতে হচ্ছে না।’
সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে গেলে সরকারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে, টাকার মান বাড়াতে হবে ডলারের বিপরীতে। লুটপাট বন্ধ করতে হবে। না হলে মূল্যস্ফীতি কমানো যাবে না। জিনিসপত্রের দাম কমানো সম্ভব হবে না।’ আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য জনগণ আগ্রহী হয়ে আছে সেখানে তারা এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা বরকত উল্লাহ বুলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বাজেট বাস্তবতাবিবর্জিত। জনগণের স্বার্থবিরোধী এ বাজেট সরকার কোনোদিনই বাস্তবায়ন করতে পারবে না। বরং ঋণনির্ভর এ বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবে।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে একশ্রেণির লোককে ধনী বানানোর জন্য এ বাজেট এটি। অতীতের মতো এবারও এ বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে হরিলুটের মাধ্যমে বিদেশের টাকা পাচার করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
