বহুবিধ গুণের অধিকারী এক আলেমের বিদায়

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৩, ১১:০২ পিএম

চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার মাগরিবের নামাজের পর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত, গুণগ্রাহী ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এরপর তাকে মাদ্রাসার কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত ১৬ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্যাংকক নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে ২৫ মে দেশে ফিরেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার তীব্র অসুস্থতা অনুভব করলে চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাজধানীর ইউনাইটেড হসপিটালে নেওয়া হয়।

মাওলানা ইয়াহইয়া ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার অন্তর্গত আলমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাওলানা ইয়াহইয়া ১০ বছর বয়সে হাটহাজারী মাদ্রাসার ফোরকানিয়া মক্তব বিভাগের শিক্ষক কারী নুরুল হক আলমপুরী (রহ.)-এর কাছে মাদ্রাসা নেসাবের প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেন। পরে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা অব্যাহত রেখে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকেই ১৯৭৩ সালে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন।

১৯৭৩ সালে হাটহাজারীর অন্তর্গত গড়দুয়ারা মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু। সেখানে ৯ বছর শিক্ষকতার পর ৩ বছর মাদার্শা মাদ্রাসা, পরে হাজী ইউনুস (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত ঈছাপুর ফয়জিয়া তাজবিদুল কুরআন মাদ্রাসায় ৬ বছর শিক্ষকতা করেন। এখানে শিক্ষকতার সময় হাটহাজারী মাদ্রাসার তৎকালীন মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) এবং মাওলানা কাসেম ফতেহপুরী (রাহ.)-এর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৯১ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। হাটহাজারীতে তিনি উর্দুখানা থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদিস এবং তাফসির বিভাগে নিয়মিত ক্লাস করিয়েছেন। ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মাওলানা ইয়াহইয়া হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে মাওলানা ইয়াহইয়া বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য কওমি মাদ্রাসার শূরা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের সহসভাপতি, খতমে নবুওয়ত আন্দোলনের সভাপতি, হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য এবং বাংলাদেশ নূরানি তালিমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্বদানেও তার সুখ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি সাধাসিধে, অমায়িক ও বিনয়ী এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

বহুবিধ যোগ্যতা ও গুণের অধিকারী এই আলেম সর্বমহলে গ্রহণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে সারাদেশের আলেম সমাজ, মাদ্রাসার ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ফজরের নামাজের পর দেশের প্রায় মাদ্রাসার তার জন্য দোয়া ও কোরআন খতম করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত