জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে ইসলাম ধর্ম অনুষদ, ইউরোপে এই প্রথম

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 

২০২৭ সালে উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্মাণাধীন ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এ ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইসলামিক থিওলজির পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ব বিভাগকে একই স্থানে আনা হবে। ২০২১ সাল থেকে পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলছে।

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচ ভেলে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

নবগঠিত অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে বলেন, ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান। মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ১৫ বছরের কাজের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, এই অর্জন তাকে গভীর কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলামের একটি উদার, আলোকিত ও মুক্তমনা ব্যাখ্যার পক্ষে কাজ করতে চাই। তার মতে, এই অনুষদের প্রভাব শুধু ইউরোপেই নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বেও পড়বে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজির প্রধান ছিলেন খোরশিদে। নতুন অনুষদ হওয়ায় এখন ইসলামিক থিওলজি নিজস্বভাবে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে এবং গবেষণা তহবিল সংগ্রহও সহজ হবে। আশা করা হচ্ছে, এই নতুন মর্যাদার ফলে তৃতীয় পক্ষের গবেষণা তহবিল সংগ্রহ করাও সহজতর হবে।

২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা কেন্দ্রটিতে বর্তমানে আটজন অধ্যাপক ও ৫০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন। আগামী কয়েক বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন খোরশিদে।

জার্মানির বিভিন্ন সরকারি স্কুলে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা চালু হওয়ায় যোগ্য শিক্ষকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় প্রায় ৩ হাজার ইসলাম ধর্মের শিক্ষক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৩৩০ জন।

২০২৭ সাল থেকে ইসলাম ও সমাজকর্ম নামে একটি স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান খোরশিদে। তিনি জানান এতে যুবসেবা, হাসপাতালের ধর্মীয় পরামর্শ, প্রবীণদের সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সামঞ্জস্য, কোরআনের সমকালীন ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চরমপন্থা, ইহুদি-বিদ্বেষ এবং ইসলামবাদের বিরোধিতার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খোরশিদে বলেছেন, নতুন অনুষদের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে যে পরিমাণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। আফ্রিকা ও এশিয়ার মতো দূরবর্তী অঞ্চলের গণমাধ্যমগুলোও এই ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তিনি বিশেষভাবে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

খোরশিদে বলেন, মানুষ একটি মুক্তমনা ইসলামের আকাঙ্ক্ষা করে। তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদে জার্মানির সীমানা ছাড়িয়ে ইসলামের ভবিষ্যৎ বিকাশ সংক্রান্ত বৃহত্তর রূপ দিতে মুনস্টার সাহায্য করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র নরবার্ট রবার্স বলেন, একই ছাদের নিচে খ্রিস্টান ও ইসলামিক থিওলজিকে একত্রিত করার উদ্যোগের শক্তিশালী প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনেত্তে শাভান এই পদক্ষেপকে একটি মাইলফলক খ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি ইউরোপজুড়ে একাডেমিক ধর্মতত্ত্বের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত