পাকিস্তানের রাজনীতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির (পিটিআই) ভবিষ্যৎ ক্রমেই ঘোলাটে হয়ে উঠছে। সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তির রোষানল এড়াতে একসময়ের পরম আস্থাভাজনরা ইমরানের দল ছেড়েছেন। কিন্তু তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত পিটিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মাহমুদ কুরেশি অন্যদের মতো দল ত্যাগ করেননি। গত ১১ মে কুরেশিকেও গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয় কারাগারে। গত মঙ্গলবার মুক্ত হয়ে কুরেশি বুধবার ইমরানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এই বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি ইমরান কিংবা কুরেশি। আর এতেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও টিভির অনলাইন সংস্করণে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লাহোরের জামান পার্কে ইমরানের বাসায় পিটিআইয়ের সর্বোচ্চ দুই নেতার এ বৈঠক তিক্ততা দিয়ে শেষ হয়। এমনকি দুজন বেশ কড়া ভাষায় কথা বলেন বলে দাবি সংবাদমাধ্যটির। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে করাচি চলে যান কুরেশি।
জিও টিভির অনলাইনে বলা হয়, একটি সূত্র (কুরেশির কাছের বন্ধু) জানিয়েছেন, বৈঠকে কুরেশি ইমরান খানকে প্রস্তাব দেন, এ সংকটময় মুহূর্তে যেন তিনি পিছিয়ে যান অথবা বিদেশে চলে যান। আর এগুলো না করলে আপাতত যেন চুপ থাকেন। এ ছাড়া বর্তমান সমস্যা সমাধানে তাকে এবং অন্যদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানান ইমরান খানের সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা কুরেশি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যানকে কুরেশি আরও বলেন, এখন তাদের খারাপ সময় যাচ্ছে। আর এ সময় আবেগ দিয়ে কোনো কিছু না করে বুদ্ধিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওই সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, কুরেশি ইমরানের কাছে পরিষ্কার করেছেন, যারা তাকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে তারা এ কঠিন মুহূর্ত থেকে বের হতে তাকে কোনো সহায়তা করতে পারবে না। এ সময়ই ক্ষেপে যান ইমরান। তখন কুরেশি বৈঠক শেষ করে বের হয়ে যান।
প্রসঙ্গত, পিটিআই ভাঙনের পর দলের প্রধান ইমরানকেও ‘মাইনাস’ করার তৎপরতা চলছে এমন খবর প্রকাশ করেছিল পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন। গত ২ জুন ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরানকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ বা সরিয়ে দিতে তৎপর হয়েছেন পিটিআই থেকে পদত্যাগ করা কিছু নেতা। আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। এজন্য কুরেশি বন্দি থাকা অবস্থায় আদিয়ালা জেলে তার সঙ্গে দেখা করেন ফাওয়াদসহ কয়েকজন। ইমরানের সঙ্গ ছেড়ে তাদের সঙ্গে যোগ দিতেও কুরেশিকে অনুরোধ করেছিলেন ফাওয়াদ। সেদিন জেলের একটি আলাদা কক্ষে তাদের বৈঠকের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
সেনাবাহিনীর তীব্র সমালোচনা করার পর গত ৯ মে পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তিনি মুক্তি পান। কিন্তু তাকে আটকের পর সেনা স্থাপনায় হামলাসহ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ইমরানের করা মন্তব্যের খেসারত দিচ্ছে পিটিআই। গ্রেপ্তার, সামরিক আদালতে বিচার এবং দেশটির সর্বেসর্বা সামরিক বাহিনীর রোষ এড়াতে পিটিআইতে দেখা দেয় ভাঙন। একে একে ইমরানের দল ছেড়েছেন তার আস্থাভাজন নেতারা। যাদের অনেকেই ৯ মের পর গ্রেপ্তার হয়ে পরে জেল থেকে মুচলেকা দিয়ে বের হয়েছেন। মুক্ত হওয়ার পরই তারা ইমরানের সঙ্গ ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দেন। এর মধ্যে আছেন ইমরান সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের মুখপত্র ফাওয়াদ চৌধুরী, শিরিন মাজারি, ইমরান ইসমাইল, আমির কিয়ানি এবং মেহমুদ মৌলভির মতো সিনিয়র নেতারা।
