এশিয়ার অন্যতম এক শক্তি অর্থনীতি, প্রযুক্তিতে উন্নত জাপান। কিন্তু এই উন্নত দেশে এতদিন মানবাধিকারের একটি বড় দিকই ছিল উপেক্ষিত, অস্পষ্ট। আর সেটি হলো, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের যথাযথ বিচার না হওয়া কিংবা আইনের ফাঁক গলে অপরাধীর নিস্তার পাওয়ার ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা। দেশটির ধর্ষণ সংশ্লিষ্ট আইনের এই ত্রুটির কারণে অনেক নারীই ধর্ষণের শিকার হয়েও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেন না, কারণ তারা জানেন হয়তো তাদের অভিযোগ প্রচলিত আইনে ধর্ষণ বলেই গণ্য হবে না, তারা প্রাপ্য ন্যায় বিচারটা পাবেন না। এমন তরুণীদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেগুমি। যার জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, জাপানের এক অন্ধকার দিক যে ধীরে ধীরে আলোর মুখ দেখছে, সেই গল্প তুলে ধরেছে বিবিসি। আশা জাগছে, মেগুমির মতো তরুণীরা এবার ন্যায় বিচার পাবেন, কারণ ধর্ষণ আইনে সংস্কার আনতে যাচ্ছে জাপান।
বিবিসি জানায়, জাপানের সংসদে ধর্ষণের নতুন সংজ্ঞায় ‘জোরপূর্বক যৌন মিলন’ কথাটির জায়গায় ‘সম্মতি-বিহীন যৌন মিলন’ কথাটি বসানোর ব্যাপারে আইন-প্রণেতারা আলোচনা করছেন। বর্তমান জাপানি আইনে ধর্ষণকে ‘জোর করে’ ও ‘ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে’ বা একজন ব্যক্তির ‘অচেতন অবস্থা বা প্রতিরোধ করার অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে সংঘটিত যৌন সংসর্গ বা অশালীন কাজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সংজ্ঞাটি অন্যান্য অনেক দেশের সংজ্ঞার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, জাপানের এই সংকীর্ণ সংজ্ঞা প্রসিকিউটর এবং বিচারকদের দ্বারা আইনের আরও সংকীর্ণ ব্যাখ্যার দিকে পরিচালিত করেছে, ন্যায়বিচারের জন্য একটি উচ্চ বাধা স্থাপন করেছে এবং সংশয়বাদের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছে, যা ভুক্তভোগীদের এ সব অপরাধ রিপোর্ট করা থেকে বিরত রাখে।
ধর্ষণের পুনঃসংজ্ঞায়নের অংশ হিসেবে নতুন আইনটি স্পষ্টভাবে আটটি পরিস্থিতি নির্ধারণ করে, যেখানে ভুক্তভোগীদের পক্ষে ‘সম্মতি না দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা বা পূরণ করা’ কঠিন। নতুন আইনে সম্মতির যোগ্য বয়সও বাড়িয়ে ১৬ বছর করা হবে এবং সীমাবদ্ধতার বিধি বাড়ানো হবে। এতদিনে এই সম্মতি দানের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর!
