উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

৪০ দিন পর আমাজনে মিলল জীবিত ৪ শিশু

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ০১:৪৪ এএম

একটি ছোট উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ৪ আদিবাসী শিশুকে ৪০ দিন পর কলম্বিয়ার আমাজন জঙ্গল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় জনের বয়স মাত্র ১৩ বছর। বাকিদের বয়স ৯ বছর, ৪ বছর ও ১২ মাস মাত্র। শিশুদের উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট পেত্রো জানান, সামরিক বাহিনীর সদস্য, দমকলকর্মী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা কাকেতা প্রদেশের জঙ্গল থেকে এই চার শিশুকে উদ্ধার করেন। এক টুইটে পেত্রো বলেন, ‘দেশের জন্য আনন্দের খবর। কলম্বিয়ান জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া চার শিশুকে জীবিত পাওয়া গেছে।’

শুক্রবার পেত্রো সাংবাদিকদের জানান, শিশুরা একসঙ্গে ছিল। জঙ্গলের ভেতর তারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করছিল। কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে তাদের খুঁজে পাওয়া গেছে, এতে আমি দারুণ খুশি।’ 

এরপর গত ১৭ মে এক টুইটে কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ওই চার শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরে সেই টুইট তিনি ডিলিট করেন এবং জানান, শিশুদের উদ্ধারের বিষয়টি ‘অনিশ্চিত’।

দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কুকুরসহ শতাধিক সৈন্য পাঠানো হয়েছিল জঙ্গলে। উদ্ধারকারীদের বিশ্বাস ছিল, দুর্ঘটনার পর থেকে দক্ষিণ ক্যাকুয়েটা বিভাগের জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল তারা। সশস্ত্র বাহিনী জানায়, উদ্ধারকারীরা লাঠি ও ডালপালা দিয়ে তৈরি ঘরের মতো একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খুঁজে পেলে বিশ্বাস করতে থাকেন, সেখানে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা রয়েছে। এরপর অনুসন্ধান প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হয়। সশস্ত্র বাহিনী প্রকাশিত ছবিতে জঙ্গলের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রের ডালপালার সঙ্গে একটি কাঁচি এবং চুল বাঁধার ফিতা দেখতে পাওয়া যায়। এর আগে বাচ্চাদের পানির বোতল এবং একটি আধা-খাওয়া ফল খুঁজে পেয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা।

তারা যে সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজের আরোহী ছিল, সেটি ১ মে ভোরের আগে বিধ্বস্ত হয়েছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় তাতে ওই চার শিশুসহ সাত আরোহী ছিল; উড়োজাহাজটি কলম্বিয়ার আমাজোনাস প্রদেশের আরারাকুয়ারা থেকে গুয়াভিয়ারে প্রদেশের সান হোসে দেল গুয়াভিয়ারে শহরে যাচ্ছিল। যাত্রাকালে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় বিপদসংকেত পাঠানোর পরপরই সেটি আমাজন জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। এতে ওই শিশুদের মা, পাইলটসহ তিনজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হন। সেই সময় থেকেই শিশুরা নিখোঁজ থাকলেও তারা জঙ্গলে বেঁচে থাকার উপযোগী, এই বিশ্বাসে চলছিল উদ্ধার অভিযান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত