আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্ট, পাথর, টাইলস, লিফট, সিরামিক, গ্লাস, সুইচ-সকেট, কেব্ল, কিচেনওয়্যারসহ আবাসন খাতে ব্যবহার হয় এমন ১২ ধরনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে আবাসন খাতে খরচ বাড়বে। এতে আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত আরও ২১১ শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে সমগ্র অর্থনীতিতে গতি কমবে বলে মনে করেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা।
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে আবাসন খাতে খরচ বাড়বে। যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতার ওপর পড়বে। প্লট, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের দাম বাড়বে। উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতা কমবে। এতে আবাসন খাত লোকসানে পড়বে।
আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট (২০২৩-২০২৪) পুনর্বিবেচনা না করলে আগামীতে জমি এবং ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধি পাবে। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে জমি রেজিস্ট্রেশন কালে উৎসে আয়কর ও গেইন কর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
সভাপতি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্ট, পাথর, টাইলস, লিফট, সিরামিক, গ্লাস, সুইচ-সকেট, কেব্ল, কিচেনওয়্যারসহ কম পক্ষে ১০ থেকে ১২টি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এসব পণ্যের দাম বাড়বে। এসব পণ্যের বড় ক্রেতা হচ্ছি আমরা যারা ফ্ল্যাট, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করি। আর সব শেষ এই পণ্যের দাম গিয়ে পড়বে ফ্ল্যাট, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের ক্রেতার ওপর।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে আবাসন শিল্পে সংকট তৈরি হবে। আবাসন খাতকে রক্ষায় প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, রিহ্যাব জাতীয় বাজেট উপলক্ষে আবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া করলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তার কোনোটার প্রতিফলন হয়নি। বিশেষ করে অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ, ফ্ল্যাটের সেকেন্ডারি বাজারব্যবস্থা চাঙ্গা করতে পুরনো ফ্ল্যাটে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, বিশেষ তহবিল গঠনসহ কোনো দাবির প্রতিফলন হয়নি।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এ খাত সম্প্রতি নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। উদীয়মান এই খাতে নানা রকম কর আরোপ ও সরকারের নীতিসহায়তার অভাবে ক্রমে দেশের আবাসন খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পতিত হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে জমি রেজিস্ট্রেশনকালে উৎসে আয়কর বৃদ্ধি, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর ওপর নতুন করে অতিরিক্ত কর আরোপ এই আবাসন খাতকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। বাড়তি দাম ক্রেতার ওপর পড়বে এবং সবার জন্য আবাসন এই স্লোগানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে ও অনেকের আবাসনের স্বপ্ন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
এনবিআর সাবেক সদস্য কর বিশেষজ্ঞ ড. আমিনুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বিভিন্ন খাতে বাড়তি রাজস্ব আরোপ করে আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী শুধু রাজস্ব আরোপ করলেই হবে না। এখানে বিচার করতে হবে ঐ খাতে কতটা অর্থ প্রবাহ হচ্ছে। ঐ খাতে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন কি না, বেচাকেনা কেমন হচ্ছে। ব্যবসা করতে পারলেই তা লাভ হবে। রাজস্ব পরিশোধের অর্থ জোগাড় হবে। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের ফলে আবাসন খাতে কতটা ব্যবসা করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
