শরীয়তপুরের বিচারক ও ২ পুলিশ কর্তাকে তলব

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩, ০৩:৪৬ এএম

একটি ছিনতাই মামলার আসামিদের শারীরিক নির্যাতন ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকার চেক লিখে নেওয়ার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে শরীয়তপুরের দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে হাইকোর্টের আগাম জামিনের আদেশ থাকার পরেও আসামিদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ব্যাখ্যা দিতে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৬ জুলাই তাদের হাইকোর্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

তলব করা দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) রাসেল মনির এবং এ ঘটনায় প্রত্যাহার হওয়া পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবী মজিবুর রহমান বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এনে আদেশ চান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ মে দ্রুত বিচার আইনে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় একটি ছিনতাই মামলা হয়। এ মামলায় জাজিরা উপজেলার নাওডোবা আহম্মেদ চোকদারকান্দি এলাকার সাদ্দাম চোকদার, বকুল চোকদারসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। গত ২৯ মে সাদ্দাম, বকুল, সাইদুল হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। জামিনে থাকার সময় ৩০ মে রাতে তারা এ মামলার আরেক আসামিকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এক বন্ধুর বাসায় যান। রাতে সেই বাসায় গিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরদিন থানায় নিয়ে এসে আসামিদের বাবার কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকার চেক লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আসামিরা। ১ জুন শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার হোসেন বাপ্পী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচারককে তলবের পাশাপাশি এ ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শক ও শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত