পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) এনামুল কবীরের বিরুদ্ধে আইনজীবী আশিকুর রহমানকে মারধরের অভিযোগের পর এবার আশিকুরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তার এক ভাই। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ভাই গোলাম মোহাম্মদ সোহেল দাবি করেন, আইনজীবী আশিকুর বিভিন্ন সময়ে তার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।
এর আগে গত বুধবার অতিরিক্ত ডিআইজি এনামুল কবীরের কক্ষে আশিকুর তার মায়ের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। তখন অতিরিক্ত ডিআইজি আশিকুরকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে থাপ্পড় মারেন বলে সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আশিকুরের ভাই গোলাম মোহাম্মদ সোহেল জানান, তারা সাত ভাই। প্রায় এক বছর আগে আশিকুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয় তার। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে আশিকুর তার মা নুরুন্নাহারকেও মারধর করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ হওয়ার পর ভাইয়েরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান। একপক্ষে আশিকুর ও গোলাম আহমেদ ওরফে সুমন। বাকি পাঁচ ভাই একপক্ষে। পাঁচ ভাইয়ের পক্ষে থাকা মিজানুর রহমান সুজন পুলিশের এসআই হিসেবে নেত্রকোনা জেলায় কর্মরত। পারিবারিক বিরোধের জেরে সম্প্রতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আশিকুর। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার শুনানির জন্য আশিকুর রহমানদের সাত ভাই ও মা নুরুন্নাহারসহ পরিবারের সদস্যদের ডাকেন অতিরিক্ত ডিআইজি এনামুল কবীর। শুনানি চলাচালে আশিকুর তার মায়ের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তখন অতিরিক্ত ডিআইজি আশিকুরকে থাপ্পড় মারেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আশিকুরের ভাই ইমরুল কায়েস, তারেক রহমান এবং আরেক ভাই মিজানুর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করা হয়, অতিরিক্ত ডিআইজি এনামুল কবীর আইনজীবী আশিকুর রহমানকে নিজের কক্ষে প্রথমে থাপ্পড় ও পরে রড দিয়ে পেটান। আইনজীবী সমিতিতে আশিকুর রহমানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ডিআইজিকে বরখাস্তের দাবি জানান।
