সুনামগঞ্জের শাল্লায় স্রোতে ভেসে গেছেন দুই সন্তানসহ এক মা। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শাল্লা সরকারি কলেজসংলগ্ন সেতুর কাছে ডুবন্ত রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার ১৬ ঘণ্টা পর গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মাউতি বিল থেকে দুর্লভ রানী দাস (৩০) নামে ওই মায়ের লাশ উদ্ধার করা হলেও মেয়ে জবা রানী দাস (৭) ও ছেলে বিজয় দাসের (৫) খোঁজ মেলেনি।
শাল্লা থানা সূত্র জানিয়েছে, দুর্লভ রানী উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের বিলপুর গ্রামের রতীন্দ্র দাসের স্ত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় শাল্লা সরকারি কলেজসংলগ্ন সেতুর পূর্বপ্রান্তের নিকটবর্তী দক্ষিণ দিকের শাসখাই বাজারে যাওয়ার ডুবন্ত রাস্তা দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুর্লভ রানী। স্রোতের তোড়ে হঠাৎ পানিতে পড়ে যায় ছেলে বিজয়। তাকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন মেয়েসহ তিনি। মুহূর্তেই তীব্র স্রোতে তারা হারিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব, ওসি মো. আমিনুলসহ পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে রাতে তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে মাউতি বিলে নিখোঁজ নারীর ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে।
শাল্লা থানার ওসি বলেন, তিনজন স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হলেও গতকাল বেলা ১১টায় নিখোঁজ নারী দুর্লভ রানী দাসের লাশ মাউতি বিলে পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজ দুই শিশুর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব বলেন, দাঁড়াইন নদীর আধা কিলোমিটার দূরে মাউতি বিলে দুর্লভ রানীর ভাসমান মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ দুই শিশুর সন্ধানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
