এবার নুরুলকে বহিষ্কার করলেন রেজা কিবরিয়া

আপডেট : ২১ জুন ২০২৩, ০৪:৩৮ এএম

এবার গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি মো. নুরুল হককে (ভিপি নুর) সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলটির আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খানকেও সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দুজনকেই দলের দপ্তর বরাবর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিতে বলা হয়। গত সোমবার নুরুল হকের সভাপতিত্বে গণ অধিকার পরিষদের বৈঠকে দলটির আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া সদস্য সচিব মো. নুরুল হককে সাময়িক অব্যাহতি দিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণ অধিকার পরিষদের গঠনতন্ত্র, ২১ দফা কর্মসূচি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং মূলনীতিবিরোধী কাজ করা, বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান, মানি লন্ডারিং আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা, ইসরায়েলসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সভা আয়োজন ও অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনোনয়ন করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মো. নুরুল হককে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে আমি ড. রেজা কিবরিয়া, আহ্বায়ক, গণ অধিকার পরিষদ সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সদস্য সচিব হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও অধিকার পরিষদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হাসান আল মামুনকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করছি।

দলটির নেতারা জানান, দুই নেতার বিরোধে দলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় গত রবিবার ঢাকায় রেজা কিবরিয়ার বাসভবনে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকে রেজা কিবরিয়া দলের সদস্য সচিব নুরুল হকের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ করেন। এ ছাড়া রেজা কিবরিয়া দলের তহবিল নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে নুরুল হক পাল্টা অভিযোগ করেন, তাদের দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরে ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ইনসাফ কায়েম কমিটির কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। সেজন্য তিনি অর্থ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন নুরুল হক। এ ছাড়া দলের কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ার অভিযোগও করা হয় রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। পরে রেজা কিবরিয়া উঠে চলে যান কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে। পরদিন রেজা কিবরিয়া বিদেশে চলে যান।

সোমবার রেজা কিবরিয়ার অনুপস্থিতিতে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা আবার বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নুরুল হক। বৈঠকে রেজা কিবরিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয় রাশেদ খানকে। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ড. রেজা কিবরিয়াকে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক করার পর থেকে কয়েকটি ঘটনায় দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন রেজা কিবরিয়া ও দলটির সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না এই দুই শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে দলের এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

অব্যাহতির বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘তিনি আমাকে বহিষ্কার করার কে? গণ অধিকার পরিষদ আমাদের হাতে গড়া। এখানে তার কোনো ভিত্তি নেই। গণ অধিকার পরিষদ তরুণদের দ্বারা গঠিত সংগঠন। গণ অধিকার পরিষদ তৈরি হওয়ার আগেই বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ছাত্র, যুব, শ্রমিক, প্রবাসী, পেশাজীবী সংগঠন তৈরি হয়েছে। তাতে রেজা কিবরিয়ার বিন্দুমাত্র কোনো অবদান নেই। সুতরাং তিনি গণ অধিকার পরিষদের সংগঠকদের বহিষ্কার বা অব্যাহতি দিতে পারেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত