জেএমবির তুহিন দুটি টেলিভিশনে চাকরি করতেন

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ০২:১৭ এএম

সারা দেশে একযোগে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় করা একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ১৮ বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুহিন রেজা (৪২) নামের এই আসামি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য। তিনি পলাতক থাকা অবস্থায় দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন।

সর্বশেষ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও এডিটর হিসেবে কমর্রত ছিলেন। এর আগে আরেকটি টেলিভিশন চ্যানেলে একই পদে চাকরি করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁও রেলগেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব-৩। উল্লেখ্য, সারা দেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঝিনাইদহ আদালত চত্বরে বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৪ আসামির মধ্যে তুহিন রেজা ১০ নম্বর। ৭ নম্বর আসামি মোহন এখনো পলাতক। গ্রেপ্তারের পর তুহিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০০৪ সালে জেএমবির ঝিনাইদহ সদর শাখায় সদস্য হিসেবে যোগদান করেন তুহিন। তিনি এই শাখার লিফলেট তৈরি, প্রচারপত্র, প্রচারপুস্তকসহ বিভিন্ন লিখিত নথি সম্পাদনা, গোপন ও নাশকতমূলক খবরাখবর আদান-প্রদান, বিভিন্ন ভিডিও এডিটিং করে তৈরি বিভ্রান্তিমূলক প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে তরুণদের পথভ্রষ্ট করতেন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হামলার আগে দীর্ঘদিন ধরে নীলনকশা সাজান তারা। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ভোর থেকেই অন্য হামলাকারীদের সঙ্গে তুহিন আদালত চত্বরের আশপাশে অবস্থান নেন এবং হামলার সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এলোপাতাড়ি বোমা হামলার পর তারা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান। তুহিন পালিয়ে ঝিনাইদহ সদরে জঙ্গি ক্যাম্পে কিছুদিন গা ঢাকা দেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে প্রথমে যাত্রাবাড়ী, পরে খিলগাঁও, উত্তরা, মহাখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় স্থান পরিবর্তন করে বসবাস করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময় বাসা পরিবর্তন করে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বসবাস শুরু করেন।

র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, ২০২১ সাল থেকে তুহিন তেজগাঁও এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকেন এবং সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি জঙ্গিরা। রাজধানীর ৩৪টি স্পটসহ ৪৫০টি স্পটে প্রায় ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। আধা ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এ সিরিজ বোমা হামলায় দুজন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে নিজেদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছিল জেএমবি। ওই দিন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জজ আদালতসহ কয়েকটি এলাকায় একই সময়ে বোমা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় অচেনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়। তদন্তে ২১ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। ২০ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। ঝিনাইদহ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে অভিযুক্ত সবাইকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করে। ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাজা কমিয়ে ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বাকি ৭ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত