মেক্সিকোর গহিন জঙ্গলে সুপ্রাচীন এক শহরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। শহরটিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে পিরামিডের মতো ভবন ও পাথরের স্তম্ভসহ অনেক স্থাপনা। গবেষকদের ধারণা, এটি প্রাচীন মায়া সভ্যতারই এক হারানো শহর। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে এ শহর মায়া জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ এক কেন্দ্র ছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, মেক্সিকোর কামপেচে প্রদেশের ‘বালামকু’ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শহরটির সন্ধান পেয়েছে মেক্সিকোর জাতীয় নৃবিজ্ঞান ও ইতিহাস ইনস্টিটিউটের প্রতœতাত্ত্বিক দল। তারা শহরটির নাম দিয়েছেন ‘ওকুমতান’। মায়া ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায় পাথরের স্তম্ভ।
প্রতœতাত্ত্বিক দলটি জানায়, ৫০ হেক্টরের বেশি এলাকাজুড়ে এ শহরের ব্যাপ্তি। সেখানে ২৫০ থেকে ১ হাজার খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মায়া জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা বসবাস করতেন। অনুসন্ধানী এ দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ইভান স্প্রাজক। ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার হাঁটার পর শহরটি নজরে আসে তাদের। ইভান বলেন, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, শহরটি একটি উপদ্বীপের ওপর উঁচু ভূমিতে অবস্থিত। এর চারপাশে রয়েছে জলাভূমি। শহরটিতে বেশ কয়েকটি বড় ভবন রয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মিটারের বেশি উঁচু কয়েকটি পিরামিড
আকৃতির স্থাপনা রয়েছে।
শহরটি থেকে মৃৎশিল্পের কয়েকটি নিদর্শনও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ইভান। তা ছাড়া কয়েকটি গর্তের সন্ধান মিলেছে, যেগুলো ৬০০ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দের বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে। ইভানের ভাষ্য মতে, শহরটিতে পাওয়া নমুনাগুলো আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে বিস্তারিত ইতিহাস ও চমকপ্রদ সব তথ্য পাওয়া যাবে।
এদিকে, মেক্সিকোর নৃবিজ্ঞান ও ইতিহাস ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, তারা লা রিগুয়েনা নদী পর্যন্ত একই ধরনের আরও কিছু স্থাপনার সন্ধান পেয়েছে। এ বিষয়ে ইভান স্প্রাজক বলেন, এলাকাটি বাজার অথবা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের স্থান ছিল। এ নিয়ে গবেষণা করলে এ অঞ্চল ও বাসিন্দাদের সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানা যাবে। প্রাচীনকালে উত্তর ও লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল মায়া সভ্যতা। এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বর্তমান মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্য আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে। এসব অঞ্চলের গভীর জঙ্গলে প্রায়ই মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়।
