বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কথা খুব পরিষ্কার, অবিলম্বে পদত্যাগ করেন এবং সংসদ বিলুপ্ত করেন। যত দিন যাবে, ততই দেশের, মানুষের, গণতন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকার যে নামেই বলেন না কেন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে তাদের হাতে ক্ষমতা দেন। তারা নতুন নির্বাচন কমিশন করে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। এটাই একমাত্র পথ, আর কোনো পথ নেই। সুতরাং যত দ্রুত পারেন ওই জায়গায় যান। তা না হলে পালানোরও পথ খুঁজে পাবেন না। কারণ এর আগে বলেছি, সময় আর নাই, সময় শেষ হয়ে গেছে। সরকার পতনের চলমান আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।’
গতকাল সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ হোসেন জ্যাকিসহ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। এতে ছাত্রদল ছাড়াও যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। নয়াপল্টন থেকে মিছিলটি কাকরাইল, শান্তিনগর মোড় ঘুরে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ রকম খালিদ হোসেন জ্যাকি, মজনু (রফিকুল আলম মজনু), মুন্না (আবদুল মোনায়েম মুন্না), শাহীন (গোলাম মাওলা শাহীন) নয়, গত এক মাসে ৩৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাহলে বুঝতে পারছেন তারা কী করতে যাচ্ছে? সুতরাং প্রতিরোধ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ২০১৪, ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে গায়েবি মামলা দিয়ে নেতাকর্মীকে জেলে পুরে দিয়েছিল। আজকে আবার অনেক আগে থেকেই নির্বাচনের কাজ শুরু করেছে। নৌকায় ভোট দেন, নৌকায় ভোট দেন বলে যাচ্ছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ বলছে, আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না।’ তিনি বলেন, এসপি, ডিআইজি, টিএনও, ম্যাজিস্ট্রেট, ওসি বদলি করছে। কোনটা তার নিজের, সেটাও বুঝতে পারে না। এটাই হয়। যখন পতনের সময় আসে, তখন কেউ নিজের লোক থাকে না।
কাঁচা মরিচের খুব ঝাঁজ থাকে এই ঝাঁজ আর মানুষ এখন সহ্য করতে পারছে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আপনি আপনার দল মানুষের সম্পত্তি লুট, বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছেন, ৪০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন তাতে কি আন্দোলন ঠেকানো যাচ্ছে। ৬০০ মানুষকে গুম করেছে, সহ¯্রাধিক মানুষকে হত্যা করেছে, তাতে কি আন্দোলন বন্ধ করা যাচ্ছে?’
মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা ও লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রকিবুল ইসলাম বকুল, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এদিকে দুপুরে দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ চলছে এক দুর্বিনীত দুঃশাসনের সর্বনাশা প্রতাপে। বিরোধী দল ও মত এখন নিষ্ঠুর নিষ্পেষণে পিষ্ট। বিএনপির গ্রাম থেকে শহরে কোনো নেতাকর্মীরই স্বাভাবিক জীবন যাপনে নিরাপত্তা নেই। সর্বত্রই মনে হয় আওয়ামী পুলিশ বাহিনী বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ধরার জন্য ওত পেতে আছে। যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সদস্য মিজানুর রহমান খানসহ যুবদল, ছাত্রদলের ২১ নেতাকর্মীকে মামলায় জড়িয়ে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
