অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নেই

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩, ০৬:১১ এএম

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটির সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি আছে কি না, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব কি না, সে বিষয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন। আমরা সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অলোচনা করেছি। আমাদের দলীয় অবস্থান তাকে অবহিত করেছি। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি এখানে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে সেখানে পবিত্র ঈদুল আজহার মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যে হামলা করেছে এবং নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে তা উঠে এসেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সরকার মানছে না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি  গত ১৯ মে  থেকে গতকাল পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশে

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে তার একটি তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। তালিকায় দেখানো হয়েছে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ২২০টি, মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮৫০ জন এবং মোট আসামি করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৬০ জনকে। পাশাপাশি সাংবাদিক নির্যাতন, সাধারণ মানুষকে হয়রানির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রদূতের পতাকাবাহী গাড়ি গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। দোতলায় রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব। বৈঠকে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ডিসিএম স্প্যানিয়ার বার্ন্ড ও পলিটিক্যাল অফিসার সেবাস্টিয়ান উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। বৈঠকের পর রাষ্ট্রদূতকে বিদায় জানান বিএনপি মহাসচিব। পরে কার্যালয়ের গেটের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ইইউ থেকে একটা এক্সপার্ট টিম আসবে আগামী সাপ্তাহে এবং এই এক্সপার্ট টিমের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি তারা সিভিল সোসাইটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। সেই এক্সপার্ট টিমের অগ্রগামী সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আমাদের কী চিন্তা, আমরা কী ভাবছি, আমরা কী করছি এ বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।’ ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, ২০১৪, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে। সে বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্য কী জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা যেটা সব সময় চাচ্ছেন, অনেকবারই তারা বলেছেন যে তারা বাংলাদেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন দেখতে চায়। সামনে যে এক্সপার্ট টিম আসবে তারা দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার সুযোগ আছে কি না, সেটা দেখবে। অগ্রগামী টিমের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইইউ রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন।’

‘আপনারা কী বলেছেন’ প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি এখানে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’

বিএনপি নির্দলীয় সরকারের কথা বলছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, সংবিধানের বাইরে তারা যাবে না দুই পক্ষই অনড় অবস্থানের মধ্যে আছে, কূটনীতিকরাও তাদের অবস্থান থেকে কাজ করছেন। এ রকম অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় সংলাপের সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে নির্বাচনের পরিবেশ আছে কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইইউ প্রতিনিধিদলের যে এক্সপার্ট টিমের সদস্যরা আসবেন, তারাও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করবেন। এখানে প্রধান দুই দলের সংলাপের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

রাজনীতিতে বারবার একটা কথা আলোচনা আসছে যে নির্বাচনকালীন প্রেসক্রিপশন সেখানটাই ওনাদের (ইইউ) কোনো পরামর্শ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনের তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। তা ছাড়া কিসের প্রেসক্রিপশন? এখানে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠুভাবে, এখানে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয় নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ছাড়া। বর্তমানে আওয়ামী লীগ যে অবস্থাটা তৈরি করেছে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে গত দুইটা নির্বাচনে যে নির্দলীয় সরকার ছাড়া এখানে নির্বাচন সম্ভব না। প্রেসক্রিপশনের প্রশ্ন না, এখানে সংবিধানে আছে ভোটাররা ভোট দেবে, ভোট দিয়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে সরকার গঠন হবে।’

জাপার নির্বাচনী ভাবনা জানতে চাইলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইইউ রাষ্ট্রদূতের রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে এ বৈঠক হয়।

জাপার এক নেতা এ বৈঠকের কথা জানান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইইউ ডেপুটি রাষ্ট্রদূত বার্নড স্পেনিয়ার ও জিএম কাদেরের বিশেষ দূত মাশরুর মওলা বৈঠকে ছিলেন।

এ নেতা বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বৈঠকে দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই নির্বাচনে জাপা অংশগ্রহণ করবে কি না এবং করলে কীভাবে অংশ নেবে, জোটগত নাকি এককভাবেÑ তা জানতে চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত। জাপার পক্ষ থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত