ফখরুল বললেন

এক দফা দাবিতে এবার চূড়ান্ত আন্দোলন হবে

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৩, ০৬:৫৪ এএম

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার আগে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে বিএনপি। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবার চূড়ান্ত পর্যায়ের আন্দোলন হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আগামীকাল (আজ) ১২-দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক। এরপর গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করব। আন্দোলনে সব মানুষ সম্পৃক্ত হবে এবং জনগণ তার অধিকার আদায় করে নেবে।

তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার সরকার তার ক্ষমতা হাতে রাখার জন্য, নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের করায়ত্তে রাখার জন্য সংসদে একটি আরপিওতে সংশোধনী নিয়ে এসেছে। এই সংসদে এটা (বিলটি) সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী।

এনপিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, এ সরকারের পতন ঘটানোর জন্য যা যা করা দরকার আমরা সেটা করব। বিএনপির সঙ্গে একমত হয়েছি, যে কর্মসূচি দেবে সেই কর্মসূচি আমরা মাঠে থেকে পালন করব।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন। ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে বৈঠকে ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ নেতাদের মধ্যে জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ড. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির চেয়ারম্যান সুকৃতি কুমার মণ্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আজ বিকেলে ১২ দলের সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করবে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি। ১২-দলীয় জোটের নেতা বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা জানান, আগামীকাল (আজ) বিকেল ৩টায় গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করব আমরা।

এ ছাড়া সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন সামনে রেখে ‘যৌথ রূপরেখা’ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক ১০ জুলাই হবে বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, আগামী সপ্তাহে পৃথক মঞ্চ থেকে এক দফা আন্দোলন ও রাষ্ট্র সংস্কারে ‘যৌথ রূপরেখা’ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এজন্য বিএনপি রাজধানীতে সমাবেশ কর্মসূচি দিতে পারে। সেখান থেকে এক দফা দাবিতে কর্মসূচি ও ‘যৌথ রূপরেখা’ ঘোষণা হতে পারে। এক দফার কর্মসূচি ও ‘যৌথ রূপরেখা’ নিয়ে পরামর্শ করতেই এই বৈঠক।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক বলেন, ‘ইতিবাচক প্রক্রিয়া সবকিছু এগোচ্ছে। আশা করছি জুলাইয়ের মাঝামাঝি রূপরেখার ঘোষণা আসতে পারে। এক মঞ্চ থেকে নয়, যুগপৎভাবে শরিকরা পৃথক মঞ্চ থেকে এ ঘোষণা হতে পারে।’

চলতি সপ্তাহেই ধারাবাহিকভাবে এলডিপি, লেবার পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে বিএনপির।

গুম ইস্যুতে ভোট না দেওয়া মানবাধিকার পরিপন্থী : বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা বলেছেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিরিয়ায় গুম বা নিখোঁজ ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়েছে তা জানতে একটি নিরপেক্ষ মেকানিজম বা বডি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়। এই প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থাকে। প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে পাস হয়। সেখানে বাংলাদেশের ভোটদানে বিরত থাকা মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।

গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। গতকাল বুধবার ওই আলোচনার বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হলেও এ বিষয়ে ভোটদানে বিরত থাকা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের বর্তমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে গুরুতর অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উঠেছে, তা মিথ্যা নয়। সভায় এই অবৈধ সরকারের সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মির্জা ফখরুল ছাড়াও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত