জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের গজারিআটা গ্রামের একটি সড়ক পাকাকরণের ঘোষণাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্পের উদ্বোধনের পর সড়কের পুরোনো ইট তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায় কথিত ঠিকাদার। এরপর থেকে নতুন করে কোনো নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুরিঘাট থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের ঘোষণা দিয়ে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে মিষ্টি বিতরণও করা হয়। উদ্বোধনের পরদিন থেকেই সড়কের পুরোনো ইট খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলেও এরপর আর কোনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জরুরি যানবাহন চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরে এলাকাবাসী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সড়কটির নামে কোনো সরকারি প্রকল্প, দরপত্র বা কার্যাদেশই ছিল না। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প সেখানে নেই।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় কৃষকরা সড়কের ওপর ধান রোপণ করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, শুধু প্রতারকদের শাস্তি দিলেই হবে না; সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে এমন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করা হলো, সেটিও তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দেড় মাস ধরে সড়কটি অযত্নে পড়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে কাদা জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে যেতে পারছে না, কৃষকরা বাজারে ফসল নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, মুসল্লিদের মসজিদে যেতে কষ্ট হচ্ছে এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, প্রথমে তিনিও প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে ঘটনা জানার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে প্রতারকরা এই নাটক সাজিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি প্রথমে এমপির কাছ থেকেই জানতে পারেন। পরে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই সড়কের উন্নয়নের কোনো অনুমোদিত প্রকল্প ছিল না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অনেককে আটক করা হয়েছে। কিছু ইট উদ্ধার করা হলেও বাকি ইট উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহমেদ বলেন, ওই স্থানে এলজিইডির কোনো চলমান প্রকল্প নেই। বৃষ্টির কারণে বর্তমানে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পুলিশ জানায়, ভুয়া ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে পুরো ঘটনার মূল হোতা আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ও অন্য অভিযুক্তরা জামিনে রয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
অলিখিত ফাইনালে বাংলাদেশ একাদশে দুই পরিবর্তন
নেত্রকোনায় ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, মূলহোতা আপন ভাতিজা