নামের মিলে ২ মাস কারাবন্দি

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩, ০১:৩০ এএম

ডাকাতি মামলার আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বৈশাখিয়া গ্রামের মো. ফিরোজ আলম হাওলাদার (৪৬) নামে এক নিরপরাধ ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর ফরিদপুর কারাগারে সাজা খাটছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিল ফিরোজ-সুরাইয়া দম্পতির তিন মেয়ে ফারিয়া আক্তার, তামিমা আক্তার ও মরিয়ম আক্তার।

ফিরোজ আলম হাওলাদারের পরিবারের অভিযোগ, ডাকাতি মামলাটির প্রকৃত আসামি ফিরোজাল ওরফে জুয়েল পলাতক আছে। তাদের দুজনেরই গ্রামের বাড়ি একই এলাকায় এবং নাম ও বাবার নামের সঙ্গেও আংশিক মিল আছে। তাই স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন ফিরোজ আলমের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের ৮ মার্চ বরিশাল র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের বৈশাখিয়া চৌমাথা বাজার থেকে মো. ফিরোজ আলম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। রাতেই তাকে নলছিটি থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে র‌্যাব সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, গ্রেপ্তার ফিরোজ আলম হাওলাদার ২০০৭ সালের মার্চে ফরিদপুরে সংঘটিত বাস ডাকাতির একটি মামলার আসামি। সেই মামলায় ২০১০ সালে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামি ফিরোজাল ওরফে জুয়েলকে (৫০) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়।

সুরাইয়া বেগমের অভিযোগ, সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত ওই আসামির নাম ফিরোজাল ওরফে জুয়েল (৫০)। মামলায় আসামি হিসেবে তার নাম প্রথমে জুয়েল লেখা হয়। পরে অভিযোগপত্রে ফিরোজাল ওরফে জুয়েল লেখা হয়। সেখানে তার বাবার নাম লেখা হয় মৃত নুর মোহাম্মদ ওরফে মুন্নু মিয়া। ঠিকানা উল্লেখ করা হয় নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের বৈশাখিয়া গ্রাম। ফিরোজাল ওরফে জুয়েল ২০০৩ সালে ফরিদপুরের ১ নম্বর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন একটি মামলায় সাত মাস কারাভোগ করে জামিনে পলাতক ছিল। পরে ২০০৭ সালের বাস ডাকাতি মামলায় পুলিশ তাকে আসামি করে। সেই মামলায় ১০ বছরের সাজা হয় তার।

অন্যদিকে ডাকাতির এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. ফিরোজ আলম হাওলাদার ১৯৯৭ সাল থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে আহছানউল্লাহ ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক (পিয়ন) হিসেবে চাকরি করছিলেন।

সুরাইয়া বেগম বলেন, শবেবরাতের ছুটিতে বাড়িতে গেলে তার স্বামী ফিরোজ আলম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। আর এরপর আসল আসামি ফিরোজাল ওরফে জুয়েল এলাকা ছেড়ে পালান।

সুরাইয়া বেগম জানান, ফিরোজ আলম হাওলাদারের আইনজীবী স্বপন সাহা গত ২৩ মে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন থানায় ফিরোজ আলমের জাতীয় পরিচয়পত্র, কর্মস্থলের হাজিরা খাতা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেন তিনি নির্দোষ। ফিরোজ আলম হাওলাদার এবং ফিরোজাল ওরফে জুয়েল এক ব্যক্তি নন। আদালত আইনজীবী স্বপন সাহার আবেদন আমলে নিয়ে নলছিটি থানার ওসিকে ৩০ মের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে নলছিটি থানার ওসি মুহা. আতাউর রহমান আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে জানান, আটক ফিরোজ আলমই আসল আসামি ফিরোজাল ওরফে জুয়েল।

সংবাদ সম্মেলনে সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্য প্রমাণাদি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি ডাকাতির ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। আমি তিন সন্তান নিয়া কষ্টে আছি। আমার স্বামীকে মুক্তি দিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করা উচিত।’

এ বিষয়ে ফিরোজ আলমের আইনজীবী স্বপন সাহা মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্তে নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে যাচাই না হওয়ায় প্রকৃত আসামি আড়ালে থেকে গেছে। আমরা পুলিশের এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন জমা দেব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নলছিটি থানার ওসি মুহা. আতাউর রহমান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত ফিরোজ আলমই সাজাপ্রাপ্ত ফিরোজাল ওরফে জুয়েল। আমাদের প্রতিবেদন আদালত যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত