আইএমএফের হিসাব মেনে রিজার্ভ ২৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩, ০৬:২৯ এএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিট তথ্য প্রকাশ করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দাতা সংস্থাটির সুপারিশে ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল ষষ্ঠ সংস্করণ (বিপিএম৬) অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার দিন শেষে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩৬৪ কোটি ডলার। তবে এই পরিমাণ আগের দিন ছিল ২৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গতানুগতিক হিসাব অনুযায়ী গতকাল রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৫ কোটি ডলার বা ৩০ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), লং টার্ম ফান্ড (এলটিএফ), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ), বাংলাদেশ বিমানকে উড়োজাহাজ কিনতে সোনালী ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে দেওয়া অর্থ এবং পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের খনন কর্মসূচিতে রিজার্ভ থেকে দেওয়া অর্থ বাদ দিতে হবে। যার পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৬৪০ কোটি ডলার বা ৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। এসব বাদ দিলে আইএমএফের হিসাবে দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সময়ে এ তথ্য প্রকাশ শুরু করেছে, যখন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বো লি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ গণনায় কোনো লাভ বা ক্ষতি নেই। পার্থক্যটা শুরু হিসাবায়ন পদ্ধতিতে। যে রিজার্ভ রয়েছে সামনে তা দিয়ে চার থেকে পাঁচ মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করা যাবে। আর জুন মাসে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের।

এদিকে গত জুনের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের প্রকৃত হিসাবায়ন শুরু করতে বাংলাদেশকে শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ। উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও রিপোর্টিংয়ের মান বাড়ানো। পাশাপাশি প্রকৃত (নিট) রিজার্ভ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্যও বেঁধে দিয়েছে আইএমএফ। ঋণ অনুমোদনের সময় যেসব শর্ত এই প্রতিষ্ঠান দিয়েছে, তার অন্যতম ছিল এটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত