১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পরপরই শীর্ষ লিগে উঠে আসা। সেই থেকেই শীর্ষ লিগের নিয়মিত দল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। দুবার লিগ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তারা।
২০০৭ সালে দেশের ফুটবল পেশাদার যুগে পা রাখার পর থেকেও মুক্তিযোদ্ধা ছিল নিয়মিত দলগুলোর অন্যতম। দু-বার রানার্স-আপ হওয়ার কীর্তি দেখিয়েছে দলটি। সেই ঐতিহ্যবাহী দলটিকেই এবার পেতে হলো অবনমনের অচেনা স্বাদ।
শনিবার চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ডু-অর-ডাই ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে লজ্জার এই ক্ষণের মুখোমুখি হতে হলো তাদের। কয়েক বছর ধরেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এই ফুটবল দল।
২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর ক্রীড়াচক্রে বসানো ক্যাসিনোটি বন্ধ হয়ে গেলে স্থায়ী আয়ের উৎস শেষ হয়ে যায় তাদের। এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে যেতে হলো এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। তাদের শীর্ষ লিগ থেকে বিদায়টা কাল নিশ্চিত হয়েছে অবনমন শঙ্কায় থাকা রহমতগঞ্জ শেখ রাসেলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায়।
চট্টগ্রাম আবাহনীর জন্যও এই জয়টা ভীষণ স্বস্তির। তাদেরও যে ভয় ছিল অবনমিত হওয়ার। তবে সেই সংশয়টা কেটে যায় প্রথম ১১ মিনিটেই। ডেভিড জুকু প্রথম মিনিটেই এগিয়ে নেন চট্টগ্রাম আবাহনীকে। এরপর ১১ মিনিটে ২-০ করেন অনিক হোসেন। ২৯ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধার হয়ে ইমানুয়েল একটি গোল শোধ করেন। এই জয়ে ১৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সাতে পৌঁছে গেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। অবনমনের পরিণতি মেনে নেওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংগ্রহ ১৫। মুন্সীগঞ্জে দিনের অপর ম্যাচে শেখ রাসেলের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বেঁচে গেছে রহমতগঞ্জ। তাদের সংগ্রহ ১৯। মুক্তিযোদ্ধা পরের ম্যাচে শেখ রাসেলকে যদি হারায়ও রহমতগঞ্জকে ছুঁতে পারবে না ।
মুক্তিযোদ্ধাকে এই পরিণতি বরণ করতে দেখা ভীষণ কষ্টের দলটির সাবেক অধিনায়ক ও পরবর্তী সময়ে ম্যানেজার ফিরোজ মাহমুদ টিটোর জন্য।
নেতৃত্ব সংকটকেই এই পরিণতির মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন টিটো, ‘এমন একটা দিন দেখতে হবে কখনই কল্পনা করিনি। একটা সময় শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলটির দুর্দশার শুরু ওয়ান-ইলেভেন থেকে। পরে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে সংসদে নেতৃত্ব শূন্যতা ও কর্তাদের উদাসীনতার কারণে গত কয়েক বছর ধরেই ধুঁকছিল ক্লাবটি। এবার তো অবনমনের লজ্জায় ডুবতে হলো।’
গেল মৌসুমে অবনমনের পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল ব্রাদার্সকে। এবার সেই পরিণতি নেমে এলো মুক্তিযোদ্ধার ওপর।
