তেহরানে বেড়াতে এসেছিলেন কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি, কিন্তু ঠিকমতো হিজাব না পরায় ইরানি শরিয়া আইন বাস্তবায়নকারী ‘নীতি পুলিশ’র নির্মম প্রহারের শিকার হন তিনি। পুলিশি হেফাজতে কোমায় থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। সেই তরুণীর মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসে ইরানি তারুণ্য, বিক্ষোভে উত্তাল হয় ইরান। কট্টরদের পোশাকবিধি বাতিলের দাবিতে শুরু বিক্ষোভ ধীর ধীরে ইরানের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন রূপ নিতে থাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা দেন, নীতি পুলিশ বিলুপ্ত করা হয়েছে। যদিও তার সেই ঘোষণায় অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল যে আদৌ ইরানের কট্টরপন্থি শাসকদের আমলে পোশাকবিধি শিথিল এবং নীতি পুলিশের বিলুপ্তি সম্ভব কি না। এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের সন্দেহ অমূলক নয়। প্রায় ১০ মাস আগে মাশার মৃত্যু ও তাকে কেন্দ্র করে শুরু বিক্ষোভ শিথিল হয়ে আসায় ফের ইরানের রাস্তায় টহল শুরু করেছে নীতি পুলিশ।
বিবিসি বলছে, গত রবিবার পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, ইরানের হিজাব আইন কড়াকড়িভাবে প্রয়োগ করতে মোরালিটি পুলিশ বা নীতি রক্ষা পুলিশ আবার রাস্তায় রাস্তায় টহল দেবে। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে পুলিশের মুখপাত্র সায়েদ মোন্তাজেরলমাহদি বলেন, ‘যারা পুরোপুরি আইন মেনে পোশাক পরবে না, টহল দেওয়ার সময় প্রথমে তাদের সতর্ক করে দেবেন পুলিশের সদস্যরা। তার পরও তারা যদি নির্দেশনা না মানে, তাহলে পুলিশ আইনিব্যবস্থা নিতে পারে।’
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে চালু শরিয়ানির্ভর আইন অনুযায়ী, সে দেশের মেয়ে বা নারীদের অবশ্যই মাথা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হয় এবং শরীর ঢেকে রাখা লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। এই আইন কড়াকড়িভাবে বাস্তবায়নে ২০০৬ সাল থেকে ইরানে ঘাশত-ই ইরশাদ বা নীতিমালা টহলদার পুলিশ কার্যক্রম শুরু করে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ২২ বছর বয়সী মাশা আমিনি যখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজধানী তেহরানে এসেছিলেন, ঠিকমতো হিজাব না পরার অভিযোগ তুলে তাকে নীতি রক্ষা পুলিশ আটক করে। এর আগে তাকে লাঠিপেটা এবং পুলিশের গাড়ির সঙ্গে মাথা ঠুকে আঘাত দেওয়া হয়। এরপর পুলিশি হেফাজতেই মৃত্যু হয় মাশার। সেই মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের লাখ লাখ মানুষ দেশ জুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে, যাতে অন্তত ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়। আন্দোলনের জন্য সরকারিভাবে বেশ কয়েকজনকে ফাঁসিতেও ঝোলানো হয়। কয়েক মাস ধরে চলা সেই বিক্ষোভের সময় নারীরা হিজাব পরা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল।
