সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গুতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিস্থিতি হয়নি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩, ০৬:২৩ এএম

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হলেও তা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এমন তো হচ্ছে না যে হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু রোগীরা সেবা পাচ্ছে না, তাহলে কেন হেলথ ইমারজেন্সি ঘোষণা করতে হবে? আমি মনে করি হেলথ ইমারজেন্সির সময় এখনো আসেনি।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণার পরিস্থিতি হয়নি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে গত কয়েকদিন ধরেই ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ছে। ঢাকায় রোগীর সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও এখন ঢাকার বাইরে রোগী বাড়ছে। তবে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ডেঙ্গুর বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।

সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশার কামড় থেকে মুক্ত থাকতে হবে। আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনায় যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সিটি করপোরেশনের প্রতি সতর্কতা : মন্ত্রী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের উদ্দেশে বলেন, বেশ কিছু এলাকা ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এই হটস্পটগুলোতে দ্রুততার সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণ করুন। আর নয়তো ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। হাসপাতাল প্রস্তুত। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশা মারার ওপর জোর দিতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, কলকারখানা এবং অফিসগুলোতেও লার্ভা জমছে, এগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্প্রে করার উদ্যোগ নিতে হবে। এডিস মশা মারার ওষুধ কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা দেখার আহ্বানও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

কর্মক্ষেত্রে বেশি আক্রান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছর ‘কর্মক্ষেত্রে’ মানুষ ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। মোট আক্রান্তের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৬০ এর মধ্যে। অর্থাৎ কর্মক্ষম ব্যক্তিরা, যারা বাড়ির বাইরে কাজ করেন তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তরা মনে করছেন, কলকারখানা, অফিস আদালতে মশা মারার ওষুধ সেভাবে ছিটানো হচ্ছে না। সেখান থেকে তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সে কারণে এসব জায়গায় মশার ওষুধ ছিটানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। কারখানার যারা মালিক আছেন, অফিসের যারা ব্যবস্থাপনায় আছেন তাদের প্রতি আমি অনুরোধ করব, আপনাদের প্রতিষ্ঠানে সকাল-বিকেল মশার ওষুধ স্প্রে করবেন।

স্কুলেও আক্রান্ত হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বাড়ির বাইরে বেশিরভাগ সময়ে থাকা মানুষেরা ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্কুলে মশা মারার ওষুধ ছিটানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাচ্চাদের স্বজনরা বলছেন, বাসায় তারা নিয়মিত মশার ওষুধ স্প্রে করেন। সেখানে তেমন মশা নেই। কিন্তু বাচ্চারা স্কুলে মশার কামড় খেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। কাজেই স্কুল কর্র্তৃপক্ষের কাছেও আহ্বান, তারা যেন স্কুলে মশা নিধনের ব্যবস্থা নেয়।

মুগদায় কোনো কিছুর কমতি নেই : মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় মুগদা হাসপাতাল যথেষ্ট কাজ করছে। এখানে রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে প্রায় ৫০০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন প্রায় ১০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। এই হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ডেঙ্গু রোগীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৩ জন রোগী মারা গেছে। হাসপাতালে ওষুধ থেকে শুরু করে কোনো কিছুরই কোনো কমতি নেই। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার স্যালাইন প্রয়োজন হয় এই হাসপাতালে। এই হাসপাতালে বর্তমানে আইসিইউর সংখ্যা ৫২টি। প্রতিদিন প্রায় হাজারের বেশি ডেঙ্গু টেস্ট করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, আগে ডেঙ্গুর টেস্টের মূল্য ছিল ১০০ টাকা। সেই জায়গায় এ বছর আমরা ৫০ টাকা করেছি। পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতালেও টেস্টের মূল্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছি।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত