পুতিনের আফ্রিকাপ্রীতি

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩, ১০:৩৭ পিএম

আফ্রিকাকে মায়ার বাঁধনে বাঁধতে চেষ্টা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। পিটার্সবার্গে রাশিয়া-আফ্রিকার সম্মেলনে আসা নেতাদের প্রতি পুতিনের আন্তরিকতাকে এভাবেই উপস্থাপন করেছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা এবং এই শক্তির ছায়ায় থাকা দেশগুলোর কারণে বিশ্ব থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন রাশিয়া। তবে আফ্রিকা রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় আফ্রিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া-আফ্রিকার সম্পর্ক মজবুত করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন পুতিন। এই প্রচেষ্টাকে শক্ত ভিত্তি দিতে ২০১৯ সালে রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনের শুরুটা হয়েছিল সোচিতে। এবার পিটার্সবার্গে বসেছে সম্মেলনের দ্বিতীয় আসর। গতকাল বৃহস্পতিবার সম্মেলনের শুরুতেই পুতিন আফ্রিকার জন্য সুসংবাদ দেন। দুদিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, ‘মস্কো আফ্রিকা মহাদেশের ছয়টি দেশে বিনামূল্যে ২৫-৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য পাঠাবে। এমনকি এসব শস্য ভোক্তার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেও কোনো পয়সা নেবে না রাশিয়া।’

আলজাজিরা জানায়, আফ্রিকার প্রতি পুতিনের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এই খাদ্যশস্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুতিন তার ভাষণে বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বুরকিনা ফাসো, জিম্বাবুয়ে, মালি, সোমালিয়া সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং ইরিত্রিয়ায় ২৫ থেকে ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য পাঠানোর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারব।’ রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন এক সময়ে এই ঘোষণা দেওয়া হলো যখন মস্কো নিজেদের ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যার কারণে আফ্রিকার দেশগুলো তীব্র খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় ভুগছে।

তবে নিজ ভাষণে শস্য চুক্তি থেকে সরে আসার যুক্তি তুলে ধরে পুতিন বলেন, ‘চুক্তির পর ইউক্রেনের ৭০ শতাংশ শস্য গেছে ধনীদের ঘরে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয়। অথচ সুদানের মতো নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শস্য পৌঁছেছে ৩ শতাংশেরও কম।’ এ ছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে কম দামে সারও পাঠাতে পারছে না রাশিয়া। এরপরও পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বে খাদ্য সংকটের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করছে যাকে ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করেন পুতিন।

রাশিয়া-আফ্রিকার সুসম্পর্ক এই সম্মেলনে ফুটে উঠেছে জানিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, আফ্রিকা মহাদেশের ৫৪ রাষ্ট্রের মধ্যে ৪৯ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছেন ১৭ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তবে এখানেও পশ্চিমাদের অপচেষ্টাকে দোষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সোচি সম্মেলনের চেয়েও এবার আফ্রিকার নেতাদের উপস্থিতি কম কারণ পশ্চিমারা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র নানা বিধিনিষেধ দিয়ে তাদের এখানে আসতে বাধা দিয়ে রেখেছে।’

আফ্রিকার সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে পুতিন জানান, গত বছর রাশিয়া-আফ্রিকার মধ্যে ১৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। তিনি আফ্রিকার দেশগুলোতে জ্বালানি, গণমাধ্যম, পরিবহন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং গাড়ি নির্মাণ খাতে বাণিজ্য বিস্তৃতির আশা প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে রাশিয়ার কাছ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি এবং শস্য নিশ্চয়তার আশা করেছিল আফ্রিকান দেশগুলো। পুতিনের ভাষণে শস্যের নিশ্চয়তা তারা পেলেও কাক্সিক্ষত যুদ্ধবিরতির ইতিবাচক সাড়া তারা পায়নি।

১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে জুনে দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, কমোরোস এবং জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্টরা ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গিয়েছিলেন সেন্ট পিটার্সবার্গে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেন এবং রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনা। কারণ যুদ্ধটা ইউরোপে হলেও বেশ ভুগতে হচ্ছে আফ্রিকাকে। তাই এবার পিটার্সবার্গে রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে এ ব্যাপারে পুতিনের কাছে আফ্রিকার নেতাদের আশা যুদ্ধ বন্ধে ইতিবাচক কোনো বার্তার। কিন্তু তা বাড়তি আশায় পরিণত হতে পারে। কারণ এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে আফ্রিকার মধ্যস্থতার আগ্রহে সাড়া দেয়নি রাশিয়া এবং ইউক্রেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত