আন্দোলন দিয়ে কিচ্ছু করতে পারবে না সরকারের

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৩, ০৪:৪৬ এএম

তারুণ্যের জয়যাত্রা কর্মসূচি নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন ঠেকাতে মাঠে আওয়ামী লীগ। নিজেদের কৌশল নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল হায়দার চৌধুরী

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগ-বিএনপির আজকের কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা রয়েছে। এ কর্মসূচি ঘিরে আপনার কোনো দুশ্চিন্তা আছে?

মাহাবুবউল আলম হানিফ : আমি মনে করি যে, কোনো ধরনের সংঘাত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ যারা রাজনীতি করে, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটে এমন রাজনীতি পরিহার করা উচিত। আমি মনে করি, এ যুগে এসে সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতি করে কোনো দলই টিকে থাকতে পারবে না। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ গত ১৮ ও ১৯ তারিখের কর্মসূচিতে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে এতে জনগণের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ শক্ত অবস্থানে আছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কোনো ধরনের সংঘাত বা সংঘর্ষমূলক কর্মকাণ্ড বা দেশকে অস্থিতিশীলতা করার পাঁয়তারা হলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগ দাবি করে শান্তি সমাবেশ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয় সংঘাত বাধানোর জন্য। আপনি কী মনে করেন।

হানিফ : আওয়ামী লীগ আগে থেকেই মাসব্যাপী ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। এটি নির্বাচন প্রস্তুতির অংশ। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধারাবাহিক এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে আমাদের জাতীয় শোক দিবস আসছে। সে হিসেবে শোকের মাসেও মাসব্যাপী কর্মসূচি আছে। তা ছাড়াও সংবিধান অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বরে বা আগামী বছর জানুয়ারির প্রথমদিকে জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী। ফলে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে থাকছি। নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের ঘনঘন কর্মসূচি পালন করতে হয়। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, দলের অন্য কর্মকাণ্ডগুলো জনগণের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা। কর্মসূচি থাকতেই পারে। আমি মনে করি না, এতে কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

দেশ রূপান্তর : একই দিন আওয়ামী লীগের বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ও নয়াপল্টনে বিএনপি তাদের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে। মাত্র এক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। জনগণের কাছে প্রশংসিতও হয়েছে। সামনের দিনের কর্মসূচিগুলোও কি শান্তিপূর্ণ থাকবে?

হানিফ : আমরা প্রত্যাশা করি, নির্বাচন পর্যন্ত যত কর্মসূচি থাকবে সেগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আছে, শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। আওয়ামী লীগ আশা করে, ভবিষ্যতেও সব রাজনৈতিক দল তাদের কর্মসূচিগুলো এভাবে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, পরিকল্পনা রাখে সে ক্ষেত্রে সমস্যা হতেই পারে।

দেশ রূপান্তর : বিএনপি আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করে এমন অভিযোগ আওয়ামী লীগ বরাবরই করে আসছে। আজকের কর্মসূচিতে তেমন কোনো ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলা কীভাবে করবেন? আপনাদের পরিকল্পনা কী?

হানিফ : এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোও মাঠে প্রস্তুত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। কোনো দল যদি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করে, সেটা যদি আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠন চিহ্নিত করতে পারে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করবে। আপাতত পরিকল্পনা হলো মাঠে থাকা। আইনশৃঙ্খলার কাজে যারা থাকবেন তাদের সহযোগিতা করা।

দেশ রূপান্তর : বিএনপি গত ১৪ বছর যে গতিতে আন্দোলন করেছে এবং মাঠে থেকেছে সে তুলনায় এবারের আন্দোলনে গতি কি একটু বেশি মনে হয় আপনার? তারা কি জনসমর্থন পেতে শুরু করেছে, যদি এমনটি হয়, তাহলে এর কারণ কী থাকতে পারে বলে মনে করেন?

হানিফ : বিএনপির সঙ্গে এখন সরকারবিরোধী একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ষড়যন্ত্রের কথা শোনা যাচ্ছে। যেটা বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে। তা ছাড়া আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপি নেতারা বিভিন্ন দূতাবাসে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে দৌড়াঝাঁপের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বিএনপি ষড়যন্ত্রের কাজটাই করছে। বিএনপির তৃণমূল নেতাদের ধারণা হয়েছে, বিদেশি শক্তির মাধ্যমে তারা সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসবে। এ ধরনের একটা মিথ্যা-কাল্পনিক ধারণা নিয়েই তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বিএনপি। কিন্তু দলটির মনে রাখা উচিত, ষড়যন্ত্র কখনো সফল হয় না।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগ কি মনে করে বিএনপির আন্দোলনের গতি বাড়িয়েছে বিদেশিরা?

হানিফ : বিদেশি শক্তি তাদের সমর্থন করছে এটা আমার মনে করার বিষয় না, এটা গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় আসছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, হঠাৎ করে দেশে এমন কী সমস্যা হলো দু-এক দিন পরপরই দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করতে হবে। মূলত বিএনপি দেশকে বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীল করতে চায়। এজন্য দফায় দফায় দূতাবাসগুলোতে যায়। তা ছাড়া আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? বিদেশি দূতাবাসগুলোর এখানে দায়িত্বটা কী? দায়িত্ব হলো, দেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সরকারকে কীভাবে সাহায্য-সহযোগিতা দিতে পারে, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তাদের চিন্তা-চেতনার কথাগুলো সরকারকে বলতে পারা। তা না করে রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডেকে সপ্তাহে দু-তিনবার করে বৈঠক করে দূতাবাস অফিসে, বাসভবনে। এটা তো মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে।

দেশ রূপান্তর : বিএনপির এক দফার আন্দোলন আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলেছে? আপনার কী মনে হয়?

হানিফ : আন্দোলন দিয়ে কী হয়; এক দফা আন্দোলন হোক আর ১৪ দফা আন্দোলন হোক, কী হবে আন্দোলনে। এটা কী জাতীয় পার্টির সরকার? এরশাদের সরকার? এটা আওয়ামী লীগ সরকার, শেখ হাসিনার সরকার। আওয়ামী লীগ কী অন্য কোনো দলের মতো যে যখন মন চাইবে ধাক্কা দেবে, আর ধাক্কা দিলে পড়ে যাবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি সম্পর্কে জানতে হবে। এসব এক দফা, পাঁচ দফা, দশ দফা দিয়ে আওয়ামী লীগের কিচ্ছু করতে পারবে না। এসব দিয়ে সরকারের ওপর কোনো চাপই সৃষ্টি করতে পারবে না। জনগণের ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী। জনগণ যতক্ষণ সরকারের সঙ্গে আছে ততক্ষণ সরকারের সমস্যা দেখছি না।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগ কী মনে করছে গত ১৪ বছরের আন্দোলনের মতো বিএনপির এবারের আন্দোলনও দিক হারাবে?

হানিফ : বিএনপি এখন যে আন্দোলন আন্দোলন করছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও এক দফার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বহু হাঁকডাক দিয়েছেন। বারবার আন্দোলন আন্দোলন বলে রাস্তায় নেমেছেন। ২০১৩ সালে এক দফা দিয়ে সরকার পতন আন্দোলন করেছেন, সেটার পরিণতি কী হয়েছে? সেটা ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১৫ সালেও সরকার পতন আন্দোলন করেছে, ৯৩ দিন অবরোধের নামে পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিলেন। সেই আন্দোলনও তো ব্যর্থ হয়েছিল। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আন্দোলন করলে সেই আন্দোলনে কখনো সফলতা আসবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে কখনো সরকার পতন করা যাবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে সেটার পরিণতি ভয়াবহ হয়, সেটা বিএনপি নেতারা ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন।

মাহাবুবউল আলম হানিফ

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত