সাংবাদিকদের কারণেই বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা অতিরিক্ত সক্রিয় এবং তারা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়েও ‘মাতব্বরি’ করেন বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের কারণে রাষ্ট্রদূতরা বিভিন্ন রকমের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলেন। আর আপনারা সবসময় ময়লা খোঁজেন। আপনাদের অভ্যাসটা খারাপ হয়ে গেছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘দেশ এগিয়ে চলেছে’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ঢাকায় ১২টি দেশের দূতাবাস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন। ওই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার পশ্চিমা দেশের ১৩ দূত ও মিশনপ্রধানকে ডেকে ঢাকার অসন্তোষের কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিফ্রিংয়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করে ঢাকার যেসব দূতাবাস গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল তাদের আমরা ডেকেছিলাম। তাদের কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণে আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছি। আমরা বলেছি, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা; যা দিয়ে সারা দিনের শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।’
গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রী রোম সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন। হিরো আলমকে নিয়ে বিবৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ইতালিও ছিল। দেশটির সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রিপর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো অসন্তোষ জানানো হয়েছে কি না জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা (সেখানে) এটা নিয়ে কিছু বলিনি। এটা ভদ্রতার জায়গা। আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) ময়লা, এগুলো নিয়ে আলাপ করবেন কেন? আমরা এটা নিয়ে আলাপ করিনি। আর আপনারা সবসময় ময়লা খোঁজেন। আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মী) অভ্যাসটা খারাপ হয়ে গেছে।’
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের কথা বলা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাম হাউ, এটা একটা কালচার তৈরি হয়েছে অনেক দিনের। এটা বন্ধ করা উচিত। এখন সময় এসেছে এটা বন্ধ করার।’
এ দায় কি রাজনীতিবিদদের নেই এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন ধরে এটি তৈরি করেছেন। আমরা কালচারটা পছন্দ করি না।’
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের বক্তব্য বা হস্তক্ষেপ বন্ধে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রোম সফরে ইউরোপে নিযুক্ত বাংলাদেশি দূতদের নিয়ে বৈঠকের কথা তুলে ধরেন। ড. মোমেন বলেন, ‘আমাদের দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একটা বৈঠক করেছি। সেখানে আমরা বলেছি, আমাদের দেশ সম্পর্কে অনেক দেশের জ্ঞান সীমিত। আমরা বিভিন্ন ইস্যুতে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নির্বাচন প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন এসব নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১০টি বিশেষ ব্রিফ তৈরি করেছি। আমরা বলেছি, আপনারা এটা শেয়ার করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি আগুন সন্ত্রাসী নিয়েও বই তৈরি করেছি আমরা। আমরা বলেছি, আপনারা (বাংলাদেশি দূত) ওদের (বিদেশি) সঙ্গে শেয়ার করবেন, জানান দেবেন। এগুলো নিয়ে জানাবেন। তাতে তারা আহাম্মকের মতো হঠাৎ করে বিবৃতি দেবে না। কেউ একজন তাকে (বাংলাদেশি নাগরিক) ধরল আর সে না জেনে কথা বলে দিল!’
ইতালিতে নতুন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমঝোতার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা নতুন একটি প্রস্তাবনা আমাদের দিয়েছে। আমরা সেই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করছি। পরে এটা সই হবে দ্রুত। আমরা দুটি এমওইউ সই করেছি সেখানে। তবে ওটা এখনো হয়নি। কারণ তা এখনো আলাপ-আলোচনার মধ্যে আছে।’
