সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছর শেষ হয়েছিল রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক খবর দিয়ে, যার ধারাবাহিকতা দেখা গেছে নতুন অর্থবছরেও। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করেছে রপ্তানি। সদ্য শেষ হওয়া জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের জুলাই মাসের চেয়ে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় এসেছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ। রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা নিয়ে শুরু হলো ২০২৩-২৪ অর্থবছর।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও চলতি বছরের জুনের তুলনায় কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এসেছিল ৫০৩ কোটি ১৫ লাখ ডলারের রপ্তানি আয়। ফলে জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানির আয় জুনের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ (৩.৯৮ বিলিয়ন) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছিল।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ মাসে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক থেকে এসেছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যের চেয়ে পোশাকের আয় বেশি এসেছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত জুলাই মাসের রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশের বেশি এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২২৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ২৪ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ওভেন পোশাকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৬৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ শতাংশ কম।
জুলাই মাসে পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাই মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।
জুলাইয়ে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক ছাড়াও অন্য কয়েকটি খাতেও ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। বিশেষ করে ধুঁকতে থাকা কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে এ বছরের জুলাইয়ে ১৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি হয়েছে। এ বছরের জুলাইয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৭ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময় ছিল ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ মাসে কৃষিতে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৭ দশমিক বেশি এসেছে।
অন্য খাতগুলোর মধ্যে পাট ও পাটজাতপণ্য রপ্তানিতে আয়ের প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক। জুলাইয়ে এ খাত থেকে ৬ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার এসেছে। এর আগের বছর একই সময়ের রপ্তানি আয় ছিল ৬ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় এসেছে এ মাসে। যদিও খাতটির রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ কম হয়েছে। ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ২২ শতাংশ।
এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতেও প্রবৃদ্ধি গত বছরের চেয়ে বেশি। জুলাই মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় এসেছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। কিন্তু গত বছরের জুলাই মাসে রপ্তানি আয় ছিল ১ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এবার রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে, হোম টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে ৪৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫ হাজার ৫৫৫ কোটি ৮৮ লাখ আয় করেছিলেন রপ্তানিকারকরা, যা ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ২১ শতাংশ কম। ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫২ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৭২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছে সরকার।
