কৃষিতে ঋণ বিতরণ ৩২ হাজার ৮৩০ কোটি

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৩, ০১:৩৫ এএম

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করেছে দেশের ব্যাংকগুলো। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পুরো ব্যাংক খাতের জন্য কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ৮১১ কোটি। আর বছর শেষে বিতরণ হয়েছে ৩২ হাজার ৮২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কিছু ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি বিতরণ করেছে। আবার কিছু ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এ রকম ব্যর্থ ব্যাংকের সংখ্যা আটটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৬২টি ব্যাংক। এর মধ্যে সবাই কৃষিঋণে অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশে কার্যরত আটটি বিদেশি ব্যাংকের সবগুলোই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। অন্যদিকে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যেই অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষককে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে।

তথ্য মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু গত অর্থবছরে ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংকটি, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২১ কোটি টাকার কৃষিঋণ দেওয়ার। কিন্তু গেল অর্থবছর তারা দিয়েছে মাত্র ১৪৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৩৩ দশমিক ৮১ শতাংশ অর্জন করেছে ব্যাংকটি। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫৭ কোটি টাকা। কিন্তু বিতরণ করেছে ৭৩২ কোটি ৮ লাখ, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

চতুর্থ প্রজন্মের গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল ২২৬ কোটি। সেখানে তারা বিতরণ করেছে ৭৬ কোটি ৬৭ লাখ। হিসাব অনুযায়ী ৩৩ দশমিক ৯২ শতাংশ অর্জন করেছে ব্যাংকটি। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক মধুমতীর জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাত্র ৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার কৃষিঋণ দিয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের লক্ষ্য ছিল ৬১২ কোটি টাকা কিন্তু তারা বিতরণ করেছে ১৭১ কোটি, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ইউনিয়ন ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯২ কোটি। সেখানে তারা ৫০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের হার দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ১৩ হাজার ৭৪৭ কোটি বা লক্ষ্যমাত্রার ১১২ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং বিদেশি ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ১৯ হাজার ৭২৫ কোটি বা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। গত অর্থবছর কৃষি ও পল্লীঋণ খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে রাষ্ট্রের বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটি এ সময়ের মধ্যে ঋণ বিতরণ করেছে ৭ হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১৫ দশমিক ৪২ শতাংশের বেশি।

আলোচিত সময়ে শস্য খাতে বিতরণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা, সেচ সরঞ্জাম কিনতে দেওয়া হয়েছে ২৬৮ কোটি, কৃষি সরঞ্জাম কিনতে ২৩১ কোটি, গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগির খামারে ৭ হাজার ৫১২ কোটি, মৎস্য খাতে ৪ হাজার ১৯৯ কোটি, শস্য গুদামজাত এবং বিপণনে ১৬৭ কোটি, ব্যক্তিগত খাতে ২ হাজার ১৮৮ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ৩ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে কৃষিতে শুধু ঋণ বিতরণ নয়, আদায়ও বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর ৩৩ হাজার ১০ কোটি টাকার ঋণ শোধ করেছেন কৃষকরা। গত বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২৭ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় বেড়েছে ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংক খাতে কৃষিঋণের স্থিতি বা পরিমাণ ৫২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যা ঋণের ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণের জন্য গত অর্থবছরে এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমন ফান্ড (বিবিএডিসিএফ) গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষি ও পল্লীঋণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিতরণ করতে না পারলে অবশিষ্ট অর্থ এই ফান্ডে জমা রাখতে হবে। কৃষি খাতে অধিক ঋণ দিতে সক্ষম ব্যাংকগুলোকে এই তহবিল থেকে অর্থ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ কমিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য কৃষিঋণ বিতরণে ৫০ শতাংশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণের বাধ্যবাধকতা করা হচ্ছে নতুন কৃষিনীতিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত