কামাল বেঁচে থাকলে এত বড় দায়িত্ব নিতে হতো না : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ০২:৩৭ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে ও নিজের ভাই শেখ কামালের সাংগঠনিক দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও বহুমুখী প্রতিভার কথা ‍তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি বেঁচে থাকলে আজকে আমাকে হয়তো এত বড় দায়িত্ব নিতে হতো না। তার (শেখ কামাল) সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল প্রবল। কিš‘ কখনো কোনো নেতা হওয়ার চেষ্টা বা কোনো পদে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। ব্যবসা-বাণিজ্য করে পয়সা বানানোর চিন্তা কখনো তার মাথায় ছিল না। বরং এ ব্যাপারে সে অত্যন্ত সতর্ক ছিল। পারিবারিক-সামাজিকভাবে সে অনেক দায়িত্বশীল ছিল। কারণ আমার আব্বা তো বেশিরভাগ সময় ছিলেন জেলখানায়।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার ২০২৩’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ কামালের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেই ছোট্ট বয়স থেকে মায়ের পাশে থেকে সংসারের কাজে কামাল সব সময় পাশে থাকত। তার মধ্যে দায়িত্ববোধ ছোটবেলা থেকেই গড়ে উঠেছিল।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘শেখ কামাল পড়ালেখায়ও মনোযোগী ছিলেন। আমাদের বাসায় তো সব সময় লোকজন থাকত। তারপরও তার পড়াশোনা সে চালিয়ে গেছে। সে খেলাধুলাসহ অনেক বিষয়েই আগ্রহী ছিল। আজকের ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রগতি হয়েছিল তার হাত ধরেই। আজ খেলাধুলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। যার ভিত্তিটা তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিল শেখ কামাল। এতে কোনো সন্দেহ নাই। তার যে বহুমুখী প্রতিভা, এই বহুমুখী প্রতিভাটা বিকশিত হওয়ার আগেই চলে গেল এই পৃথিবী থেকে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কামাল আমার খেলার সাথী ছিল এবং আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা একই সঙ্গে ছিলাম।’

শেখ কামালের সাদাসিধে জীবনযাপন সম্পর্কে বড়বোন শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির সন্তান হিসেবে সে কখনোই পরিচয় দিত না।’

এ সময় দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়। আমি বিশ^াস করি যে দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এটি বিকশিত হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করেছি। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-বিমাসহ অনেক কিছুই করে দিয়েছি। বেসরকারি খাত এখন অনেক শক্তিশালী। তারাই (খেলোয়াড়রা) তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম সব জায়গায় তুলে ধরতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তাদের এই সহযোগিতাটুকু করা দরকার।’

বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং দুটি সংস্থার মধ্যে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২৩’ প্রদান করেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া সচিব ড. মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান শেখ কামালের জীবন ও কর্মকা-ের ওপর স্মৃতিচারণ করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আবদুস সাদেক ও সাবিনা খাতুন। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি’ প্রদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি ‘শেখ কামাল: ক্ষণজন্মা এক নক্ষত্র’ নামে একটি বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জীবন ও কর্মকাণ্ডের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট এবং একটি উদ্ধোধনী খাম প্রকাশ করেন। ১০ টাকা মূল্যমানের ডাকটিকিট, ৪০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্প, ১০ টাকার উদ্ধোধনী খাম এবং পাঁচ টাকার ডাটা কার্ড সংবলিত একটি স্যুভেনির শিট উন্মুক্ত করেন তিনি। এ উপলক্ষে শেখ হাসিনা একটি বিশেষ সিলমোহরও ব্যবহার করেন।

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত