উপজেলা আ.লীগের কমিটিতে ঠাঁই হলো না ডা. মুরাদের

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪৯ এএম

সম্মেলনের দীর্ঘ ১০ মাস পর জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ্র স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৭১ সদস্যের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কমিটিতে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসানকে কোনো পদে রাখা হয়নি। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।

দলীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সরিষাবাড়ী অনার্স কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সভাপতি পদে ছানোয়ার হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক পদে তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। ফলে শুরু হয় আলোচন-সমালোচনা। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন কমিটিতে সহসভাপতি পদে মো. আবদুল গণি, পৌরসভার মেয়র মনির উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, সরিষাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সরোয়ার জাহান, আবুল হোসেন, আনিছুর রহমান, এ কে এম আনিছুর রহমান, মো. আনোয়ারুল কবীর, যুগ্ম সম্পাদক পদে কামরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, জহুরুল ইসলাম ও খোরশেদ আলমের নাম ঘোষণা করা হয়।

তবে নতুন এই কমিটিতে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের নাম না থাকায় হতবাক তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা ষড়যন্ত্র করে মুরাদ হাসানকে নতুন এ কমিটি থেকে বাদ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘নানা অপকর্মের কারণে কেন্দ্রের নির্দেশে তাকে (মুরাদ হাসান) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমাদের সভানেত্রী তাকে ক্ষমা করেছেন কি না সে বিষয়টি জানা নেই। তিনি সাধারণ সদস্য আছেন। কেন্দ্র থেকে সবুজসংকেত না পাওয়া পর্যন্ত তাকে দলীয় নির্বাহী পদে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

২০২১ সালে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পর তাকে জামালপুর জেলা কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। সম্প্রতি উপজেলা কমিটিতে পদপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের নেতাকর্মী নিয়ে দলীয় কার্যক্রম জোরালো করেন ডা. মুরাদ হাসান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত