মণিপুরে এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ১০:৩৩ পিএম

ভারতের মণিপুর রাজ্যে জাতিগত সহিংসতার আগুন নিভছেই না। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় সংঘাত। এরই মধ্যে গত শনিবার থেকে ২৪ ঘণ্টায় মণিপুরে প্রাণ গেছে ছয়জনের। গত ৩ এপ্রিল মণিপুরে শুরু হওয়া মেইতেই-কুকি সহিংসতায় এটাই এক দিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা। এদিন রাজ্যের বিষ্ণুপুর-চূড়াচাঁদপুর সীমান্ত এলাকায় দিনব্যাপী সংঘর্ষে আহত হয় ১৬ জন। সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনীর চিরুনি অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়েছেন একজন।

পুলিশ জানায়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে রবিবারও ইমফল পূর্ব এবং পশ্চিম জেলাগুলোতে কারফিউ জারি থাকে।

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনে বিষ্ণুপুর-চূড়াচাঁদপুর সীমান্ত এলাকায় সারা দিন ধরে উভয়পক্ষ মর্টার ও গ্রেনেড হামলা চালায়। দিনভর চলে বড় ধরনের গোলাগুলি। শনিবার ভোরে বিষ্ণুপুর জেলার কোয়াকতা এলাকার একটি গ্রামে হামলায় বাবা-ছেলেসহ তিন নিরস্ত্র গ্রামবাসী নিহত হন। আতঙ্কে নিহতদের পরিবার আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছিল। শুক্রবার গ্রাম পাহারা দিতে ফিরে এসেছিল তারা। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, দুজন পুরুষকে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। এর আগে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে দ্রুতই পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। তারা কোয়াকতার প্রতিবেশী দুই গ্রাম ফুজাং সংডোতে হামলা চালায়। অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যেই গুলি চালায় এবং মর্টার শেল ছোড়ে। হামলায় দুজন নিহত এবং বেশ কয়েজন আহত হন। বিষ্ণুপুর জেলার তেরখাংসাংবিতে একযোগে হামলায় আরও একজন নিহত ও তিনজন আহত হন। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন একজন পুলিশ কমান্ডার। ইমফল পূর্ব জেলার সানসাবি এবং থামনাপোকপি গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের গুলি করার খবরও পাওয়া গেছে। এ ঘটনা কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মণিপুরের বিজেপি বিধায়ক রাজকুমার ইমো সিং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের জামাতা। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন রাজকুমার। তার দাবি, বিষ্ণুপুর জেলায় তিনজন নিহত হওয়া হামলায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে আধাসামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দুই নারীকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে মণিপুর পুলিশ। গতকাল রবিবার পুলিশের পক্ষে জানানো হয়, বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সেই থানার ইনচার্জ, যার থানার এলাকায় ৪ মে ওই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছিল।

তফসিলি উপজাতি (এসটি) মর্যাদা প্রশ্নে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যটির মেইতি ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন মাসের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩২ লাখ অধিবাসীর মণিপুরে ১৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত