ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। পোশাকের কেজির হিসাবে এ বাজারে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে দেশের পোশাক খাত। বিজিএমইএ বলছে, খুব শিগগিরই দামের দিক থেকেও চীনকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।
পরিমাণের (কেজি) দিক দিয়ে অঞ্চলটিতে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ২০২২ সালে চীনকে টপকিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এ সময় ১৩২ কোটি কেজি পোশাক বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে ইইউ, যা ২০২১ সালে ছিল ১০৯ কোটি কেজি। এক বছরে ২১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পরিমাণের দিক দিয়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানির ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ হিস্যা বাংলাদেশের, যেখানে চীনের ২৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পোশাক আমদানিকারক অঞ্চল ইউরোপ। বিগত ৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক আমদানির মূল্য ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বিশ্ব থেকে তাদের আমদানি বার্ষিক গড় ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২২ সালে বিশ^ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি বেড়েছে ২২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ সময় বিশ^ থেকে ইইউর পোশাক আমদানি দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২১ সালে ছিল ৮৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন। ২০১৮ সালে ইইউ ৯০ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।
ইউরোস্টাটের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে ২২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করে ইইউ, যা ২০২১ সালে ছিল ১৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে প্রবৃদ্ধি ৩৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছিল। ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ইইউ ২০২২ সালে যে পরিমাণের পোশাক আমদানি করেছে, তার ২২ দশমিক ২ শতাংশের হিস্যা (মূল্যের হিসাবে) বাংলাদেশের, যা ২০১৮ সালে ছিল ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।
বরাবরের মতো চীন থেকে সবচেয়ে বেশি মূল্যের পোশাক আমদানি করে ইইউ। অঞ্চলটির মোট পোশাক আমদানিতে ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ হিস্যা রয়েছে চীনের। ২০২২ সালে চীন থেকে ৩০ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে ইইউ, যা আগের বছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৮ সালে চীন থেকে ২৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করে ইইউ। তবে ২০১৮ সালের তুলনায় ইইউর বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা বাড়লেও চীনের হিস্যা কিছুটা কমেছে। মূল্যের হিসাবে ২০২৩ সালে চীনকে টপকে যাবে বলে প্রত্যাশা করছে বিজিএমইএ।
তবে ইইউর বাজারে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। ২০২২ সালে ইইউতে দেশটির পোশাক রপ্তানির মূল্য ছিল ১১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ। ২০১৮ সালে ইইউতে ৯ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে তুরস্ক। অন্যদিকে গত বছর ৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে ইইউতে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। ২০১৮ সালে ভারত থেকে ৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল ইইউ। তবে গত পাঁচ বছরে ইইউতে ভারতের হিস্যা কমে ৫ দশমিক শূন্য ৮ থেকে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে।
গত বছর ভিয়েতনাম থেকে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করে ইইউ, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ বছরে ইইউতে ভিয়েতনামের হিস্যা ৩ দশমিক ৬৮ থেকে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
