যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়াসহ দেশগুলো বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার প্রত্যাশার কথা সরকারকে বারবার জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তারা বিরোধীপক্ষকে ভয়ভীতি না দেখিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এবং বিরোধীপক্ষের আন্দোলন কর্মসূচিতে হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউসহ ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং করছেন। আগামী তিন মাসে বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা আরও বাড়বে এবং অক্টোবর মাসে তাদের অবস্থান স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিদেশিরা এখনো পর্যবেক্ষণ করছে। চলতি মাসসহ আগামী তিন মাস, অর্থাৎ অক্টোবর পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, এই সময়ে বিদেশিদের সফরগুলো হবে নানামুখী নির্বাচনকেন্দ্রিক।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ১৬ দিনের সফর করে গেছে। এরপর আরেকজন প্রতিনিধি এসেছেন চার দিনের সফরে। ইইউ এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল আসবে অক্টোবরের শুরুর দিকে। এ ছাড়া চলতি বছরের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর চলমান। প্রতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনো প্রতিনিধি সফরে রয়েছেন। এ মাসেই ঢাকা সফরে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ প্রতিনিধিদল। তাদের মতে, আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের তথা পশ্চিমাদের অবস্থান নিয়ে কোনো দল বা পক্ষই স্পষ্ট কিছু বলতে পারবে না। এর জন্য অন্ততপক্ষে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছয় মাসে বিদেশিদের সফর বেড়েছে। এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর ছাড়াও আরও কয়েকটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিরা বেশি সক্রিয়। তারা নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বা কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউ কেউই নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে বা কীভাবে হবে তা নিয়ে তারা কোনো ধরনের কথা বলেনি। তারা বলছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন তারা চায়। তবে সম্প্রতি অংশগ্রহণমূলক শব্দটিও যুক্ত করেছে ইইউ। পাশাপাশি তারা প্রায় প্রতিনিয়তই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে আসছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস জানিয়েছেন, অক্টোবরে দেশটির প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল আসবে। ইইউ ঘুরে গেছে। আর এবার যতটা দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি সোচ্চার। ইইউর সঙ্গে তাদের সমন্বয় থাকতেও পারে। কাজেই যেভাবে বিদেশিদের আগ্রহ ও সফর বাড়ছে তাতে মনে হয় আগামী দুই মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব দেখেশুনে ওয়াশিংটন অক্টোবরে আসবে।
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসলে বিষয়টা তো এত প্লেইন অ্যান্ড সিম্পল নয়। তারা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে প্রত্যক্ষ করছে। আবার প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ঘুরে গেছে। দেশগুলো মানবাধিকার, দুর্নীতি, মিডিয়া, বিরোধীপক্ষের প্রতি আচরণ সব বিষয় নিয়ে কথা বলছে। কাজেই নির্বাচন নিয়ে তারা আগামী দুই-তিন মাস গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেই শেষ মতামত দেবে। অক্টোবরে এই সংসদের অফিশিয়াল কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা। এরপর থাকবে রুটিন কাজ। ইসির তফসিল ঘোষণার আগেই বিদেশিরা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
