জ্বালানি উৎপাদন শেষ শিপমেন্টের প্রস্তুতি

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৬:০৯ এএম

নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রথম ব্যাচের জ্বালানি উৎপাদন শেষ হয়েছে। রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় উৎপাদিত এই পারমাণবিক জ্বালানি রাশিয়া থেকে দেশে আনতে গতকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রটোকল সই হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জ্বালানি আমদানির সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আরেকটি মাইলফলক অর্জন করল দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি।

সাইবেরিয়া থেকে টেলিফোনে প্রটোকল সইয়ের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ও আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ শৌকত আকবর। তিনি বলেন, কারখানায় পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন ও গ্রহণের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য এই জ্বালানি এখন কারখানায় প্রস্তুত রয়েছে। প্রথম তিন বছর রাশিয়া থেকে এই জ্বালানি আমদানির জন্য বাংলাদেশকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রসাটমের জ্বালানি কোম্পানি টেভেলের একটি প্রতিষ্ঠান নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কন্সেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে (এনসিসিপি) জ্বালানি উৎপাদন দেখেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। এরপর প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর এবং এএসই ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং নির্মাণ প্রকল্পের অপর প্রকল্প পরিচালক আলেক্সি দেইরি।

প্রটোকল সইয়ের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানা থেকে বাংলাদেশে শিপমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই এই জ্বালানি বিশেষ বিমানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বাংলাদেশ পৌঁছবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ড. মোহাম্মদ শৌকত আকবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরমাণুর শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিতে বাংলাদেশ প্রতিটি ধাপে আইএইএ’র নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং কাজ শেষে উৎপাদন শুরু করতে পরিকল্পনা মোতাবেক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জ্বালানি হ্যান্ডেলিং করতে প্রয়োজনীয় জনবল তৈরিতে কোনো সমস্যা নেই। সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুয়ায়ী দেশের এবং আইএইএ’র সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আইএইএর প্রতিনিধিদল নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি এবং দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে তারা।

টেভেলের কোয়ালিটি ডিরেক্টর আলেক্সান্দার বুখালভ বলেন, টেভেল ফুয়েল  কোম্পানি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উন্নত এবং কার্যকরী পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন করেছে। এই জ্বালানি আবারও রুশ পারমাণবিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করবে।

রূপপুর প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাকটর এএসই ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেইরি জানান, প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি পৌঁছানোর আগেই প্রথম ইউনিটটি জ্বালানি লোডিং-এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমানে প্রথম ইউনিটের কমিশনিংয়ের প্রথম ধাপের কার্যক্রম চলমান আছে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক চুল্লিতে নিরাপদে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা, সুষ্ঠুভাবে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রম সম্পন্ন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে গ্রিড লাইনের সিনক্রোনাইজেন বা যুক্ত করা, পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সর্বশেষে বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সাহায্যে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা। 

রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের  জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা।

বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৪ সালে এবং এর পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য পিছিয়ে পড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে  শেষ করার জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশকে (পিজিসিবি) তাগিদ দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত