বাজার গরম ডিম মুরগি পেঁয়াজে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪১ এএম

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ডিম, মাংস ও পেঁয়াজের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিমে ১৫ টাকা, মুরগির মাংসে ২০-৪০ টাকা ও পেঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১৫-২০ টাকা করে। এছাড়া সবজি ও মাছের বাজারেও তেমন কোনো সুখবর নেই। টানা বর্ষণের দোহাই দিয়ে সবজি ও মাছের দামেও চোখা রাঙাচ্ছে ভোক্তাদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, রাজাবাজার ও পান্থপথ এলাকার বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। যা গত সপ্তাহের শুরু দিকেও ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিম ছাড়াও বেড়েছে মুরগির দাম। কেজি ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকায়। গত সপ্তাহে ২৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগিও এখন ৩৩০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা অজুহাতকে পুঁজি করে একে অপরকে দোষারোপ করছেন। পাইকারদের ভাষ্য, বড় ব্যবসায়ীরা একচেটিয়া পণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরাও একই সুর তুলেছেন। তারা বলছেন, অযৌক্তিকভাবে পাইকাররা ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর ফলে খুচরায় এর প্রভাব পড়ছে।

কাপ্তান বাজারের মুরগির পাইকার কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজারে বেশিরভাগ মুরগি সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানি। কোম্পানির প্রতিনিধিরা যেদিন যে দাম নির্ধারণ করেন তার বাইরে যাওয়া সম্ভব না। কেননা, তাদের বিরুদ্ধে যেতে চাইলে সেদিন বেকার থাকতে হয়। মুরগি আর কিনতে পারা যায় ন। তাদের থেকে মুরগি কিনে আমরা সামান্য লাভে বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকি।

রাজাবাজার এলাকার খুচরা মুরগি ব্যবসায়ী সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেছি ১৮০ টাকায়। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার এখন কেনা পড়ে ১৮০-১৮৬ টাকা। অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ১৯০ টাকার কম-বেশি পড়ে যায়। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে পাইকারদের থেকে কম দামে কিনতে পারলে আমরাও ভোক্তার কাছে দাম কমিয়ে বিক্রি করতে পারি।

মুরগির মতো ডিমের বাজারে গেল এক সপ্তাহ থেকে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সপ্তাহখানেক ধরে ডিমের দাম বাড়ছে। প্রতিদিন আপডাউন হচ্ছে। বর্তমানে ডিমের পাইকারি বাজারে ১০০ ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২২০ টাকায়। যা খুচরা বাজারে গিয়ে আরও উত্তাপ ছাড়ায়। চড়া দামে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি ডজন ডিম ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

তারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে। কিন্তু ডিম উৎপাদনকারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি অনুযায়ী, খামারিরা এতদিন প্রতি পিস ডিম বিক্রি করেছেন ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১০ টাকা ২০ পয়সা। বর্তমানে সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়।

এদিকে সবজির বাজার ঘুরে তেমন কোনো সুখবর পাওয়া যায়রি। চড়া দামেই বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে সব ধরনের সবজি। সব থেকে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে এক কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহেও ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৪০-২৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৫০-৬০, বেগুন ৭০-৮০, পেঁপে ৪০, কচুমুখি ৮০ ও ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুলের কেজি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে মুরগির মাংসের দাম বাড়ায় মাছের চাহিদা বেড়েছে। সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছও বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। বাজারে প্রতি কেজি পাবদা ৪০০ থেকে ৫৫০, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, রুই ৩৭০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা, নলা মাছ ২৫০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা, বাইলা ৭০০-৮০০ টাকা ও চাষের কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের মাছ বিক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাঁচা বাজারের হিসাব মেলানো বড্ড কঠিন। তবে ইদানীং মুরগি-ডিমের দাম বাড়ায় মাছের ওপর তা চাপ পড়েছে। আগে থেকে খাদ্যের দাম বেশি থাকায় মাছের বাজার চড়া। নতুন করে প্রাকৃতিক বন্যা ও বৃষ্টির বাধায় মাছের সরবরাহ কমেছে। সব মিলিয়ে মাছের বাজার কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত