উগ্র-ডানদের নিয়ে ক্ষমতায় আসা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের বিচার বিভাগের ক্ষমতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হলে স্বাধীনচেতা ইসরায়েলিরা কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারেন এমন শঙ্কা দৃঢ় হচ্ছে। দেশটিতে শ্রেণি, লৈঙ্গিক বৈষম্য, বিশেষ করে সমকামীদের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়ার ভয় জেঁকে বসছে। এই ভয়-শঙ্কা এবং ইসরায়েলের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপন হুমকির মুখে পড়ায় প্রতি শনিবার তারা দল বেঁধে রাস্তায় নেমে আসছেন। সরকারের বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ বন্ধে তারা কয়েক মাসব্যাপী শনিবারের বিক্ষোভ চালিয়ে এলেও কট্টর ইহুদিবাদী সরকারের টনক নড়ছে না; বরং আরও চেপে বসছে তাদের থাবা। এ পরিস্থিতিতে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিনজনে একজন ইসরায়েলি এখন দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
এমন চিন্তা করা ইসরায়েলিদের কথা উঠে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতি শনিবারের বিক্ষোভকারীদের একজন ইসরায়েলি অধ্যাপক চেন হফম্যান। গত শনিবার রাতে রাজধানী তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে যে বিক্ষোভ হয় তাতে অংশ নিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, ‘রাস্তায় গিয়ে বিক্ষোভ করা তো আমাদের রীতি না, কিন্তু আমরা করতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ আমরা আমাদের দেশটাকেই হারিয়ে ফেলতে বসেছি। আমাদের কাছে এখন গোটা পরিস্থিতি এমনই মনে হয়।’
ইসরায়েলের নামকরা এই চিকিৎসক এখন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এই রেডিওলজিস্ট এখন যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। তার স্বজনদেরও দেশ ছাড়তে উৎসাহ জোগাচ্ছেন তিনি। বিদেশে যেতে চাওয়ার ব্যাখ্যায় হফম্যান বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়ে লন্ডন যাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমি আসলে দেখতে চাইছি, বিদেশে থাকতে পারব কি না। যদি দেখি ইসরায়েলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে, তাহলে আর ফিরব না। নতুন কোথাও জায়গা খুঁজে নেব।’
ইসরায়েলে বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিতর্কিত বিল নিয়ে গণবিক্ষোভের মধ্যেই গত ২৪ জুলাই পার্লামেন্টে তা পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে বিলটি আইনে পরিণত হয়। এতে কমেছে আদালতের ক্ষমতা। সরকারের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ বড় বড় নগরীতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু অনড় নেতানিয়াহু সরকার।
