ঢাকার কেরানীগঞ্জ গদারবাদ এলাকায় রাসায়নিক দ্রব্যের গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় বাবা-মা ও ছোট বোনের পর মারা গেল আরেক শিশু। এ ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হলো।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজা (৫) নামের শিশুটি মারা যায়। তার শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া। রোজার দূরসম্পর্কের নানা ফারহাদ হোসেন জনি জানান, আগুনের ঘটনাটিতে রোজার বাবা সোহাগ, মা মিনা বেগম ও ছোট বোন তাইবা আক্তার, চাচি জেসমিন আক্তার ও চাচাতো বোন ইশা আক্তার মারা যায়।
গত সোমবার রাতে গদারবাগ আবাসিক এলাকার ওই রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের সেমিপাকা বাড়িতে। সেই বাড়িতে থাকে রোজা এবং তার চাচার পরিবার। ঘটনার সময়ই চারজন আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন দুপুরে মারা যান রোজার বাবা সোহাগ।
২০১৯ সালে চকবাজারের রাসায়নিক পণ্যের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর এসব গুদামের ওপর সরকার নজরদারি বাড়ায়। পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নিতে তাগিদ দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। তখন অনেককে জেল-জরিমানাও করা হয়। ওই সময় গোপনে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গুদাম সরিয়ে নিয়ে আসে ব্যবসায়ীরা। এরপর কেরানীগঞ্জের কালিন্দী, গদারবাগ, নেকরোজবাগ, মালঞ্চসহ বিভিন্ন এলাকায় গোপনে শতাধিক রাসায়নিক গুদাম গড়ে তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, কেরানীগঞ্জে অবৈধ সব রাসায়নিক গুদাম বন্ধ করা হবে। এ ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং করণীয় নির্ণয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
