জাহাজ নির্মাণকারীদের জন্য ছাড়

আড়াই শতাংশ শোধেই মুছবে খেলাপির বদনাম

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩, ১২:৪০ এএম

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেকায়দায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যাদেশের অভাব ও ব্যাংকঋণের ভারে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি। মূলধন সংকটে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় খেলাপি হয়ে পড়েছে এই শিল্পের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নিয়মিত করতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ দিয়েই খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে পারবে এসব প্রতিষ্ঠান।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, জাহাজ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানো ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২১’ প্রণয়ন করেছে সরকার। তবে, নানাবিধ নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণকারী ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ কমে গেছে। এর প্রভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছে না।

এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ আদায় ও খেলাপি ঋণ কমাতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঋণ কেস টু কেস বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিশেষ সুবিধার নিয়মনীতি

চলতি বছরের ৩০ জুন বিদ্যমান ঋণের স্থিতির সুদ ও আসলের জন্য দুটি আলাদা হিসাব করতে হবে। সুদ বাবদ অর্থ সুদবিহীন ব্লক হিসাবে রাখতে হবে এবং আসল বাবদ পাওনার ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সুদ আরোপ করতে পারবে। ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১০ বছরে আদায়যোগ্য ধরে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

গ্রেস পিরিয়ড শেষে (সমাপনান্তে) প্রথমে আসল আদায় করতে হবে। এরপর ব্লক হিসাবে রাখা সুদ আদায় হবে। তবে কোনো গ্রাহক চাইলে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যেও আসল এবং সুদের অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। এ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আড়াই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আদায় করতে হবে। তবে জাল-জালিয়াতির ঋণ এই সুবিধা পাবে না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসল ও সুদ বাবদ পাওনা অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে ঋণ আদায় করবে। এ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ডাউন পেমেন্ট বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়ে গ্রাহককে সুবিধা নিতে আবেদন করতে হবে। ঋণগ্রহীতার আবেদনপ্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে গ্রাহকের আবেদন নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত