‘এনবিআরকে আরও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করতে হবে’

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:২৬ এএম

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক নীতিমালা নিশ্চিতকরণ একান্ত অপরিহার্য। আমাদের ব্যবসায়িক কাজে প্রয়োজনীয় ‘স্যাম্পল’ ছাড়করণে যদি সময় বেশি লাগে, তাহলে ব্যবসা চলে যাবে ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী অন্য দেশসমূহে। তাই এক্ষেত্রে সহজীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

গতকাল বুধবার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বেসরকারি খাত এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় সুসংহতকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বৈশি^ক কমপ্লায়েন্স স্বীকৃতি অর্জন করেছে। অন্যান্য খাতেও এই কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে একত্র হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মেয়র বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চলে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘পিও’ বক্স প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন আওতাভুক্ত অঞ্চলের জন্য ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্তি সেবা অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তবে যেসব ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনায় অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, তাদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। 

তিনি বলেন, স্থানীয় উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর দেশের অর্থনীতির সাফল্য নির্ভরশীল। স্থানীয় বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতায় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ভোক্তারা মূল্যস্ফীতির শিকার হচ্ছেন। উদ্যোক্তারাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। যে কারণে বাজারে স্থিতিশীলতা আনয়নে বেসরকারি খাত এবং সরকারি সংস্থার মধ্যকার সমন্বয় একান্ত আবশ্যক।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, কর হার সমস্যা, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের অনুপস্থিতির কারণে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে আমাদের ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। কৃত্রিমভাবে পণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, স্থানীয় উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর আমাদের অর্থনীতির সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। কারণ বাজারের অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্যোক্তারা যেমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, তেমনই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও মান হ্রাসের ফলে ভোক্তারা মানসম্মত পণ্য থেকে বঞ্চিত হন।

তিনি বলেন, ভ্যাট রিটার্ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন ও অটোমেটেডের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসে যৌক্তিক হারে ভ্যাট কমানো প্রয়োজন। এছাড়া কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া দ্রুতকরণ, বিএসটিআইর সক্ষমতা বাড়ানো এবং এনবিআর, ট্যারিফ কমিশন ও প্রতিযোগিতা কমিশনসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থার মধ্যকার সমন্বয় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আমাদের তেল-চিনিসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যের মূল্যে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতার কারণেও আমাদের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ভোক্তারা মূল্যস্ফীতির শিকার হচ্ছেন।

পাইকারি পর্যায়ে ‘ক্যাশলেস পেমেন্ট সিস্টেম’ প্রবর্তন এবং ‘পাকা রসিদ’র ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে, দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সরকার দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে আমদানি পর্যায়ে শুল্কারোপ করছে, যা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশের অবকাঠামোসহ উন্নয়ন খাতে ব্যয় হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন-এর চেয়ারপারসন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গ্যাপ রয়েছে, যেটি নিরসন করা দরকার। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অবদান প্রায় ৮২% এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সহায়ক নীতি সহায়তা প্রদানে সরকার বদ্ধপরিকর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত