ব্ল্যাঙ্ক চেকে জিম্মি প্রান্তিক খামারি

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:২৭ এএম

কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, বাকিতে ফিড কেনাসহ নানা প্রয়োজনে করপোরেট কোম্পানিগুলোকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা। এই ব্ল্যাঙ্ক চেকই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। করপোরেটরা ব্ল্যাঙ্ক চেককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। যখন তখন মামলা দিয়ে প্রান্তিক খামারিদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ জানিয়ে সুমন হাওলাদার বলেন, প্রান্তিক খামারি অনেকেই মিথ্যা চেকের মামলা খেয়ে পথে পথে ঘুরছেন। পোলট্রি ব্যবসায় চেক জামানত রেখে ব্যবসা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ব্ল্যাঙ্ক চেককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে করপোরেট পোলট্রি মালিকরা পথে বসিয়ে দিচ্ছেন ছোট ছোট খামারিদের। এ জন্য আইন সংশোধন করে সব খামারি ও ডিলারকে করপোরেটদের মিথ্যা মামলার হাত থেকে মুক্ত করে উৎপাদনে ফেরাতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, করপোরেট আধিপত্য বিস্তার পোলট্রি শিল্পকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের টার্গেট ছোট ছোট খামারগুলো বন্ধ করে দিয়ে দাদন ব্যবসার মতো কন্ট্রাক্ট ফার্মিং করা, যাতে পুরো পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি তাদের দখলে নিয়ে নিতে পারে। তাদের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এখনো যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে আছেন তারাও পরিবার নিয়ে পথে বসবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে ২০১০ সালে মুরগির বাচ্চার দাম বেঁধে দেয় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু করপোরেট গ্রুপগুলো হাইকোর্টে রিট করে তা বাতিল করেছে। এরপর থেকে দেশে মুরগির বাচ্চার দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কখনো বাচ্চার দাম ১০ টাকা আবার কখনো ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পোলট্রি নীতিমালা ২০০৮ সংশোধন করে মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ ও চুক্তিভিত্তিক খামার বৈধতা দিতে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এটা হলে করপোরেটদের কাছে পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়বে প্রান্তিক খামারি ও পোলট্রি শিল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত