পৃথিবীর প্রথম গ্রন্থাগার

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩, ০১:০০ এএম

মানুষের জ্ঞান সংরক্ষণের অন্যতম উপাদান বই। আর এই বই সংরক্ষণের স্থান হলো গ্রন্থাগার। পৃথিবীতে অসংখ্য গ্রন্থাগার আছে। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পুঁথি সংরক্ষণ শুরু হয়। মানুষ তখন পাথরে লিখে সংরক্ষণ করত জ্ঞান। পুঁথি এবং নথি সংরক্ষণে পৃথিবীর সর্বপ্রথম গ্রন্থাগার নির্মিত হয়েছিল বিখ্যাত মেসোপটেমিয়া সভ্যতার দেশ ইরাকে। বিশ্বের প্রাচীনতম গ্রন্থাগারটির নাম ‘আসুরবানিপাল গ্রন্থাগার’। রাজা আসুরবানিপালের নামে নামকরণ করা হয় এই গ্রন্থাগারের। এই গ্রন্থাগারে ৩০ হাজারের মতো মাটির ট্যাবলেট ছিল। যাতে খোদাই করা ছিল বিভিন্ন লিপি। গ্রন্থাগারটি রাজার রাজপ্রাসাদে অবস্থিত। ইরাকের মসুল শহরে নিনেভেহ নামক স্থানে এই গ্রন্থাগারটি অবস্থিত। আসুরবানিপাল ছিলেন অ্যাসিরিয়ান সম্রাজ্যের শেষ রাজা। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্মাণ করেন এই গ্রন্থাগারটি। ৬৬৮ থেকে ৬৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে তার দাদা সেনাচেরিব ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রহ শুরু করেছিলেন। পরে রাজা আসুরবানিপাল আরও মাটির চাকতি সংযোজন করেন এতে। তার গ্রন্থাগারে তিনি ধর্ম, ভাষা, চিকিৎসা, ইতিহাস, কবিতা, লোককাহিনি এবং পৌরাণিক কাহিনিসহ আগে লিখিত সব জ্ঞান এক ছাদের নিচে সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। তার গ্রন্থাগারে সবচেয়ে মূল্যবান ‘গিলগামেশের মহাকাব্য’, যা টিকে থাকা প্রাচীনতম সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে একটি। তার গ্রন্থাগারটি সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আসুরবানিপালের গ্রন্থাগারের ২০ হাজারের মতো চাকতি সংরক্ষণে আছে। সম্রাট আসুরবানিপাল ছিলেন বইপ্রেমী। যার কারণে মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় গ্রন্থাগারের যুগ শুরু হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে আসুরবানিপালের গ্রন্থাগার প্রথম গ্রন্থাগার হিসেবে স্বীকৃত।

 টি এইচ মাহির

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত