রাবিতে ১৮ খাঁচায় ছিল গবেষণার মাছ, চোরে নিয়ে গেল সব

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩, ০৬:৩১ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুকুরের ১৮টি খাঁচা থেকে গবেষণার মাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের পেছনের একটি পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন গবেষণা প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান।

বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি অনুষদ সংলগ্ন ভবনের পেছনের একটি পুকুরে ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজ চলছিল। পুকুরে রুই ও কাতলা মাছের বৃদ্ধির ওপর এবং তেলাপিয়া মাছের ‘ফ্যাটি এসিড কম্পোজিশন’ প্রভাবের ওপর গবেষণা করা হচ্ছিল। প্রতিদিন সকাল-বিকাল মাছের খাবার দেওয়ার দায়িত্ব ছিল গবেষণা কাজে নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের।

শনিবার বিকালেও শিক্ষার্থীরা মাছের খাবার দিয়েছিল। তবে রবিবার সকালে খাবার দিতে গিয়ে দেখেন ১৮টি খাঁচার সব মাছ চুরি হয়ে গেছে। পরে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বরত শিক্ষককে বিষয়টি জানান।

গবেষণার কাজে নিয়োজিত ফিশারিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিখন অধিকারী বলেন, ‘আজ সকালে খাবার দিতে গিয়ে দেখি মাছের খাঁচাগুলো এলোমেলো, পানি ঘোলা। তখন আমাদের কিছুটা সন্দেহ হয়। পরে খাঁচা তুলে দেখি কোনো খাঁচাতেই মাছ নেই। সব মাছ চুরি হয়ে গেছে। আমাদের গবেষণাকাজ আর সম্পন্ন হলো না।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মাছের খাবার দিতে দেখেন গবেষণার ১৮টি খাঁচার মাছ চুরি হয়ে গেছে। পরে বিষয়টি তারা জানালে আমি পুকুর পরিদর্শনে যাই। সেখানে রুই, কাতলা ও তেলাপিয়া মাছের ওপর গবেষণা চলছিল। গবেষণা শেষ হবার আগেই মাছ চুরি হয়ে গেল। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।’ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘রুই ও কাতলা মাছের বৃদ্ধির জন্য মাছ চাষীরা বাজারের বিভিন্ন ‘গ্রোথ প্রমোটার’ ব্যবহার করে। আমরা সেসব গ্রোথ প্রমোটারের ওপর গবেষণা করে আসছিলাম। আর কিছুদিন পরেই গবেষণাকাজ শেষ হতো। তেলাপিয়া মাছের ‘ফ্যাটি এসিড কম্পোজিশন’ ঠিক মতো না হলে মানবদেহে নানা রোগের ঝুঁকি থাকে। তাই তেলাপিয়া মাছের ওপরও গবেষণা কাজ চলছিল।’

পুকুরের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিল। তিনি সবার সঙ্গে অসদাচরণ করতেন। তাই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই ঘটনাটি শুনলাম। তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা বা গার্ড আছে কিনা তা দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত