সর্বজনীন পেনশন স্কিমে মুনাফা উত্তোলনে ঘুষ-বাণিজ্যের কোনো স্থান থাকবে না। সরকার পরিবর্তন কিংবা বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেও সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে আস্থা হারানোর সুযোগ নেই। এ তহবিলের অর্থ কোনোভাবেই খোয়া যাবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের টাকা আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে এক আলোচনায় অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কবিরুল ইজদানী খান এই দাবি করেন।
তিনি বলেন, এটা অন্যান্য পেনশনের মতো নয়। এর সঙ্গে অন্যান্য পেনশনকে মেলানো যাবে না। এখানে ব্যাংকের মতো গ্রাহক টাকা রাখবেন, তার হিসাবে জমা হবে। এখানে কোনো মানুষের হাত থাকবে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন চলবে। ব্যক্তি তার হিসাব এক বছর পর পর দেখতে পারবেন যে কত টাকা লাভসহ জমা হলো। ৬০ বছর মেয়াদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আসলসহ মুনাফা পেতে থাকবেন। তিনি বেঁচে না থাকলে তার নমিনি টাকা পাবেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কোনো টাকা অপচয় করব না। সব টাকা বিনিয়োগ করা হবে, কেনা হবে ট্রেজারি বিল ও টেজারি বন্ড। এই বিনিয়োগের মুনাফা থেকেই মানুষকে লাভ দেওয়া হবে। মেয়াদ শেষে যে টাকা ব্যক্তি পাবেন সেখানে কোনো কর আরোপ করা হবে না। ভারত-শ্রীলঙ্কায় কর থাকলেও আমাদের এখানে তা থাকবে করমুক্ত।
আলোচনায় এমসিসিআই সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম জনমানুষকে টেকসই সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বলয়ে অন্তর্ভুক্ত করার কার্যকরী উদ্যোগ। এতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সব মানুষের জন্য ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’, ‘সমতা’ এবং ‘প্রবাসী’ নামে ৪টি প্যাকেজের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে। ‘সমতা’ স্কিমের আওতায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ চাঁদা সহায়তা ইতিবাচক দিক।
মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সর্বজনীন পেনশনের আওতায় চারটি স্কিম রয়েছে। দেশের ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। ক্ষেত্র বিশেষে ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকরাও এ স্কিমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আপনি এখানে যা জমা দেবেন তা লাভসহ আপনাকে ফিরিয়ে দেবে সরকার। এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, অনলাইনে সব হবে।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় চার স্কিম
প্রবাস স্কিম
বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক তফসিলে বর্ণিত চাঁদার সমপরিমাণ অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
প্রগতি স্কিম
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মচারী বা ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক তফসিলে বর্ণিত হারে চাঁদা দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের জন্য এ স্কিমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্কিমের চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মচারী এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দেবে।
সুরক্ষা স্কিম
অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যেমন- কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, ইত্যাদি তফসিলে বর্ণিত হারে চাঁদা দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
সমতা স্কিম
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক, সময় সময়, প্রকাশিত আয়সীমার ভিত্তিতে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ব্যক্তিরা (যার বর্তমান আয় সীমা বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা) তফসিলে বর্ণিত হারে চাঁদা দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
