মিয়ানমারে ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে নিজ দেশের বেসামরিক মানুষ হত্যা করে রেকর্ড গড়ছে জান্তা। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে আন্দোলনরতদের দমন-পীড়ন এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে গণহারে বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ উঠছে দেশটির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে। চলতি বছর ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন জান্তা বাহিনীর হাতে। এ তথ্য জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)।
মিয়ানমারে গুম, হত্যা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে নজর রাখছে এই সংস্থাটি। পর্যালোচনা করে তারা দেখেছে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এএপিপি বলছে, এ বছর সাধারণ লোকজনের ওপর হামলা তীব্র হওয়ায় প্রাণহানি বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে।
পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জান্তার বিমান থেকে বোমাবর্ষণ, হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গুলিসহ আরও বিভিন্নভাবে প্রতি মাসে গড়ে ১৩০ জন বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদিকে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু থেকে সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে ওঠেছে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছে জান্তা। ফলে অঞ্চলটিতে সবচেয়ে বেশি হত্যা ও অগ্নিসংযোগ করছে ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী। এই বছর ৬ শতাধিক নারী সামরিক সদস্যদের হাতে হত্যা এবং ১৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএপিপি।
এই প্রতিবেদনের আগে এ বছর জুনে নরওয়েভিত্তিক পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানায়, অভ্যুত্থানের পর থেকে ৬ হাজার ৩৩৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পিস রিসার্চের দাবি, জান্তা সেনারা হত্যাকারী বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে। তাদের হাতে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
