রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে দুই নেতার ধস্তাধস্তি

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৩৯ এএম

বরিশাল নগরীতে দিনদুপুরে ব্যস্ত সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ধস্তাধস্তি করেছেন বরিশাল নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর ও মহানগর জাতীয় পার্টির (জাপা) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ কে এম মর্তুজা আবেদীন এবং বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্না ও তার অনুসারীরা। এর দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পুলিশ এসে পিস্তলসহ তাদের থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অ্যাডভোকেট এ কে এম মর্তুজা আবেদীনের করা আট মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি অফিস থেকে মর্তুজা আবেদীন বের হওয়ার সময় ওই অফিসের সামনে রইজ আহম্মেদ মান্না ও তার অনুসারীরা অবস্থান নিয়েছে। একপর্যায়ে মান্না ও মর্তুজার মধ্যে কথা বলতে দেখা যায়। মান্নার স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে বলে মর্তুজার দিকে অভিযোগ ছোড়েন মান্না। এ সময় মান্না মর্তুজাকে তুই সম্বোধন করায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন মান্না ও তার অনুসারীরা মর্তুজা আবেদীনের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে মান্না একটি ব্যাটারিচালিত অটোর মধ্যে মর্তুজা আবেদীনের কাছ থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বেশ কিছু সময় ধরে ধস্তাধস্তি হয়।

অন্য একটি ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত অটোর মধ্যে মান্না ও মর্তুজার মধ্যে ধস্তাধস্তি হচ্ছে পিস্তল নিয়ে। তখন মান্নাকে বলতে শোনা যায় মর্তুজা তাকে গুলি করতে চেয়েছে। আর মর্তুজা পিস্তলটি তার লাইসেন্সকৃত বলে চিৎকার করে করতে দেখা যায়।

রইজ আহমেদ মান্না বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও বিদায়ী সিটি মেয়র সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। এর আগে নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়ে মহানগর ছাত্রলীগের পদ হারান তিনি। অন্যদিকে মর্তুজা আবেদীন বরিশাল নগরে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫ বছর ধরে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক।

মর্তুজা আবেদীন থানা হেফাজতে বসে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কাজে লঞ্চঘাট ভূমি অফিসে যাই। এ সময় আমি অফিসের ওপর থেকে দেখতে পাই বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্নাসহ তার ৩০-৪০ জন অনুসারী অফিসের নিচে। এই ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে। পরে যখন ওখান থেকে বের হই এ সময় মান্না আমাকে শালা আমার বৌয়ের গায়ে তুই হাত দিছো” বলে মান্না ও তার অনুসারীরা আমার ওপর হামলা চালায় এবং আমার সঙ্গে থাকা লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় আমার পিস্তল রক্ষা করার জন্য হাতে নিই। আর পিস্তল লক করা ছিল। মান্না ও তার অনুসারীদের সঙ্গে পিস্তল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশ এসে আমার লাইন্সেসকৃত পিস্তল তার হেফাজতে নিয়ে নেয়।’

এ বিষয়ে রইজ আহম্মেদ মান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের জমাজমির বিষয়ে একটি ঝামেলা ছিল। সেই কাজের জন্য আমি ভূমি অফিসে যাই। ওই কাজ শেষ করে যখন বের হই তখন পাশ থেকে এসে মর্তুজা আবেদীন পিস্তল বের করে আমাকে গুলি করতে আসে। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা তিন-চারজন তারা বিষয়টি দেখতে পায়। পরে তারা এবং স্থানীয়রা মর্তুজাকে গুলি করা থেকে রোধ করে। আর ট্রাফিক পুলিশ এসে ওই পিস্তলটি নিয়ে যায় এবং মডেল থানায় ফোন করা হলে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।’

কাউন্সিলর মর্তুজা আবেদীনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরও তার ওপর আবার হামলা চালায় মান্নার অনুসারীরা। এই নিয়ে পুলিশের এসআই রাকিবের সঙ্গে বেশ উচ্চবাচ্চা হয় মান্না ও তার অনুসারীদের। এ বিষয়ে স্টিমার ঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পৌঁছানোর আগেই কাউন্সিলরের ওপর হামলা করা হয়। পরে আমরা তাকে হেফাজতে নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এ ছাড়া মর্তুজা আবেদীনের কাছ থেকে যে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে সেটির লাইসেন্স আছে কি না সেই কাগজপত্র চেক করা হচ্ছে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ‘অস্ত্রটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে, তা ছাড়া কাউন্সিলর সাহেবও থানায় রয়েছেন। আমরা বিষয়টি দেখছি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করে দেখা হবে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মর্তুজা আবেদীনের অভিযোগের কারণে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা হারান রইজ আহম্মেদ মান্না। কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে এই দুই রাজনৈতিক নেতার সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত